ফিফা আসিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বে হতাশাজনক হার দিয়ে অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে দুটি গোল হজম করার পর বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি লাল-সবুজের দল। শেষ পর্যন্ত স্বাগতিক মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে মাঠ ছাড়ে থমাস ডুলির দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখে মালয়েশিয়া। একের পর এক আক্রমণে বাংলাদেশের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখলেও পালটা আক্রমণে ওঠার সুযোগ খুব কমই পাচ্ছিল বাংলাদেশ।
চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে মালয়েশিয়া। কর্নার থেকে পাওয়া বলে গোলমুখে জোরালো শট নেওয়া হলে গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় তা বাইরে পাঠিয়ে দেন।
১৮ মিনিটে অবশ্য আর রক্ষা হয়নি। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে বাংলাদেশের ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন মালয়েশিয়ার ১০ নম্বর আরিফ আইমান। তপু বর্মণ তাকে আটকানোর চেষ্টা করলেও সফল হননি। এরপর শ্রাবণকেও পরাস্ত করে শটটি জালে পাঠান আরিফ। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় মালয়েশিয়া।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্বাগতিকরা। ৩৮ মিনিটে তপু বর্মণের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে যান আরিফ আইমান। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। ফলে বিরতিতে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে কিছুটা গতি বাড়ানোর চেষ্টা করে বাংলাদেশ। কিন্তু ৫২ মিনিটে তৃতীয় গোল হজম করে দলটি। ডান দিক থেকে আসা বল বাম পায়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ে শট নেন ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ান ফরোয়ার্ড বের্গসন গুস্তাভো। শটে গতি খুব বেশি না থাকলেও সেটি ঠেকাতে পারেননি শ্রাবণ। ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-০।
এরপর ব্যবধান কমানোর ভালো সুযোগ আসে বাংলাদেশের সামনে। ৭৬ মিনিটে সতীর্থের বাড়ানো বল নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন হামজা চৌধুরী। গোলরক্ষক ছাড়া সামনে আর কেউ ছিলেন না। কিন্তু হামজার প্রথম প্রচেষ্টা রুখে দেন মালয়েশিয়ার গোলকিপার। ফিরতি বল পেয়ে দ্বিতীয়বার শট নিলেও সেটি কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন তিনি।
শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোলের চেষ্টা করেও আর ব্যবধান কমাতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে ৩-০ গোলের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় থমাস ডুলির দলকে। বড় হার দিয়ে ফিফা আসিয়ান কাপের গ্রুপ পর্ব শুরু হলো বাংলাদেশের।



