কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাড়ির যাতায়াতের রাস্তা টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে একটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মিন্নত আলী অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বাড়ি দখলের চেষ্টা করে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভৈরব প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন মিন্নত আলী। ঘটনাটি ভৈরব শহরের চণ্ডীবের এলাকায়।
সংবাদ সম্মেলনে মিন্নত আলী অভিযোগ করে বলেন, তারা চার ভাই, এক বোন ও মা। ভূমি দখলের উদ্দেশ্যে মাহমুদুল হাসান রনি, হাজী আবদুর রহিম ও শফিকুল ইসলাম তার দুই ভাই, এক বোন ও মায়ের কাছ থেকে জমির পাওয়ার নিয়ে তাদের বাড়ি দখলে নিয়েছেন।
মিন্নত আলীর দাবি, তিনি ও তার এক ভাই বাড়ি বিক্রি করেননি। এমনকি ওয়ারিশদের মধ্যে কোনো বণ্টননামাও হয়নি। এরপরও পাওয়ারের ভিত্তিতে গত সপ্তাহে তাদের বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ জোর করে তার ঘর ও বাথরুম ভেঙে নতুন ঘর নির্মাণ করছে। এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করলে পুলিশ গিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। কিন্তু এরপরও আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বাড়িতে ভাঙচুর ও নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মিন্নত আলী বলেন, তার পৈতৃক জায়গাসহ বাড়ির বিভিন্ন অংশ দখল করে নতুন করে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। বর্তমানে একটি ভাঙা ঘরে বসবাস করলেও রাস্তা বন্ধ থাকায় পরিবারসহ কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন তিনি।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিপক্ষের হাজী আবদুর রহিম ও তার ছেলে মাহমুদুল হাসান রনি বলেন, মিন্নত আলীর দুই ভাই, এক বোন ও মা তাদের কাছে বাড়ি বিক্রির জন্য পাওয়ার দিয়েছেন। সেই পাওয়ারের ভিত্তিতেই তারা যতটুকু জমি যেভাবে পেয়েছেন, সেভাবেই বাড়ির দখল নিয়েছেন।
তবে বাড়ির বণ্টননামা করা হয়নি—এ বিষয়টি তারা স্বীকার করেছেন।
রাস্তা বন্ধ, বাড়ি দখল ও আদালতের নির্দেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং আদালতের মামলার বর্তমান অবস্থার বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি।



