ট্রাম্পের হুমকি ঘিরে বিতর্ক, আন্তর্জাতিক আইন ও বাস্তবতায় কতটা সম্ভব দখল নেওয়া?
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানকে যুদ্ধে পরাজিত করার পর এই জলপথকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে আন্তর্জাতিক আইন ও যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সাংবিধানিক কাঠামোর দিক থেকে ট্রাম্পের এমন দাবি বাস্তবে কতটা কার্যকর করা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নিউইয়র্কে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, জলপথটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ কার্যত ইতোমধ্যেই রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডের অংশ করা হতে পারে।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্যকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী এই দাবিকে ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করে বলেন, হুমকি, যুদ্ধজাহাজ কিংবা রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির ওপর মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। ইরানের অবস্থান হলো, এই জলপথ তাদেরই থাকবে।
আন্তর্জাতিক আইনে কী বলা আছে?
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প চাইলেই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পরিণত করতে পারবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী অন্য কোনো ভূখণ্ডকে দেশের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে সিনেটের অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে।
এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনও এখানে বড় বাধা। জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ। ফলে কোনো একক রাষ্ট্র ইচ্ছামতো পুরো জলপথের ওপর সার্বভৌম মালিকানা দাবি করতে পারে না।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রেও হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালিটিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর উত্তেজনা বাড়লেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। ওমান এ ক্ষেত্রে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয়েছে, জলপথ পুরোপুরি উন্মুক্ত করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা এবং নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড করার হুমকি বাস্তবায়নের চেয়ে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ধারণা, ট্রাম্প নিজের রাজনৈতিক সমর্থকদের কাছে শক্ত অবস্থান তুলে ধরতে এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতেই এমন বক্তব্য দিয়ে থাকতে পারেন।
সূত্র: আল-জাজিরা



