tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদসারাদেশবাড়িতে বাড়িতে বাঁশের সাঁকো, উঠানে কোমর পানি কেশবপুরে এক মাস ধরে...

বাড়িতে বাড়িতে বাঁশের সাঁকো, উঠানে কোমর পানি কেশবপুরে এক মাস ধরে জলাবদ্ধতা, পানিবন্দি ২৫০ পরিবার

যশোরের কেশবপুর উপজেলার বাগডাঙ্গা ও মনোহরনগর গ্রামের বাড়ির উঠানে তাকালে মনে হয় যেন বিশাল কোনো পুকুর। কোথাও ফুটে আছে শাপলা, কোথাও জমেছে শ্যাওলা ও কলমি। জন্মেছে লম্বা ঘাসও। বাড়ির উঠান পেরোতে তৈরি করা হয়েছে বাঁশের সাঁকো। এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়িতে যেতে হলে সাঁকো না থাকলে কোমরপানি পেরিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।

এভাবেই গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কেশবপুরের বাগডাঙ্গা ও মনোহরনগর গ্রামের বাসিন্দারা। পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় মৌসুমি বৃষ্টির পানি জমে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুই গ্রামের অন্তত ২৫০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

শনিবার সরেজমিনে গ্রাম দুটিতে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ বাড়ির উঠান পানিতে তলিয়ে আছে। কোথাও কোমরসমান পানি। এই পানির মধ্য দিয়েই বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কাজ করতে হচ্ছে। গরু-ছাগল নিয়েও চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই গ্রামে মোট ৩৮৭টি পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে বর্তমানে প্রায় ২৫০ পরিবার জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগে রয়েছে।

বাগডাঙ্গা গ্রামের ৭০ বছর বয়সী বাসিন্দা পিনু রানী সরকার বলেন, আষাঢ় মাসের প্রথম দিন থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। বছরের প্রায় বেশির ভাগ সময়ই বাড়ির উঠানে পানি জমে থাকে। বাড়ি থেকে বের হতে বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করতে হয়। জলাবদ্ধতার কারণে এলাকায় মশার উপদ্রবও বেড়েছে।

মনোহরনগর গ্রামের বাসিন্দা নমিতা সরকার বলেন, জলাবদ্ধতা শুরু হওয়ার পর থেকেই গরু-ছাগল নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। একই গ্রামের নির্মল রায় বলেন, পানির কারণে এলাকায় সাপের ভয়ও বেড়ে গেছে।

পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বৈদ্যনাথ সরকার বলেন, দুই গ্রামে মোট ৩৮৭টি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে ২৫০ পরিবার বর্তমানে পানিবন্দি। বাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্য অনেক পরিবারকে নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করতে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা থাকায় অনেক গাছপালাও নষ্ট হয়ে গেছে।

পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা রূপালী রানী বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে বাগডাঙ্গা ও মনোহরনগর গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে দুই মেট্রিক টন চালের ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার বেশির ভাগই ওই দুই গ্রামের মানুষের জন্য দেওয়া হয়েছে। নতুন করে আরও এক মেট্রিক টন চাল এসেছে। এরও বেশির ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হবে।