অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের (সেটলার) হামলা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অন্তত ১৪ জন ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। একই দিনে সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নাবলুস, হেবরন, বেথলেহেম, রামাল্লাহ ও তুলকারমসহ পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় সমন্বিত সামরিক অভিযান চালানো হয়। এ সময় নাবলুসের কাছে নতুন করে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশের ঘটনাও ঘটেছে।
ফিলিস্তিনের ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে মোট ১১ হাজার ৭৪টি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার মধ্যে সামরিক অভিযান, গ্রেপ্তার, জমি দখল, বসতি সম্প্রসারণ, নতুন চেকপয়েন্ট স্থাপন এবং সেটলারদের সহিংস হামলার ঘটনা রয়েছে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, নাবলুসের দক্ষিণ-পশ্চিমে তেল গ্রামের আইন আল-মাজরাব এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের নিরাপত্তায় বিপুলসংখ্যক বসতি স্থাপনকারী প্রবেশ করে। এর আগে বিভিন্ন সেটলার সংগঠন ওই এলাকায় গণমিছিলের ডাক দেয়। এর একদিন আগে ইসরায়েলি বাহিনী তেল গ্রামের চারটি ফিলিস্তিনি বাড়িকে অস্থায়ী সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করে।
শুক্রবার ইসরায়েলি বাহিনীর সহায়তায় বসতি স্থাপনকারীরা পাশের আল-জুনেইদ ও সুররা গ্রামে মিছিল করলে স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, সংঘর্ষে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হন এবং চার শিশুসহ আরও ১০ জন টিয়ার গ্যাসে আক্রান্ত হন।
এর আগের সপ্তাহে তেল গ্রামে ইসরায়েলি সেনা ও সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় চার ফিলিস্তিনি নিহত হন। ওই হামলায় বহু মানুষ আহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়িঘর, যানবাহন ও কৃষিজমিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
অন্যদিকে, শুক্রবার হেবরনের ইয়াত্তা এলাকা থেকে দুজন, বেথলেহেম থেকে দুজন, রামাল্লাহর উত্তরের আতারা সামরিক চেকপয়েন্ট থেকে একজন এবং তুলকারমের পূর্বের আনাবতা এলাকা থেকে আরও একজনকে আটক করা হয়। রামাল্লাহ ও আল-বিরেহ এলাকায় অভিযানের সময় ফিলিস্তিন মেডিকেল কমপ্লেক্সের আশপাশে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘ সতর্ক করে জানিয়েছে, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখলের ঘটনা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) দুই বছর আগে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারত্বকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি বলে রায় দিয়েছিল।
ফিলিস্তিনি প্রিজনার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে প্রায় ২৪ হাজার ৬০০ ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৯০০ শিশু এবং ৭৮৫ জন নারী রয়েছেন।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বর্তমানে ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে প্রায় ৯ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯৪ জন নারী, ৩৫০ জনের বেশি শিশু, ৩ হাজার ২৪৪ জন প্রশাসনিক আটক এবং ১ হাজার ৩২০ জনকে ‘অবৈধ যোদ্ধা’ হিসেবে বন্দি রাখা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি বন্দি অধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, পশ্চিম তীরে ধারাবাহিক গ্রেপ্তার অভিযান, সামরিক তৎপরতা এবং বসতি স্থাপনকারীদের হামলার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত শাস্তির নীতি আরও জোরালোভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।



