tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদসারাদেশশ্রীমঙ্গলের রিসোর্টে গোপন ক্যামেরার অভিযোগ, পাল্টা চাঁদাবাজির দাবি

শ্রীমঙ্গলের রিসোর্টে গোপন ক্যামেরার অভিযোগ, পাল্টা চাঁদাবাজির দাবি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাধানগর এলাকার ‘মেঘ মালতি’ রিসোর্টে গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ পাল্টা চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছে। এ ঘটনার কয়েকদিন পর রিসোর্টটির নাম পরিবর্তন করে ‘বেলা শেষে’ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুলাই মৌলভীবাজারের এক তরুণ ও এক তরুণী রিসোর্টটির ১০১ নম্বর কক্ষে অবস্থান করেন। রিসোর্টের নিবন্ধনে তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিলেও পরে জানা যায়, তারা প্রেমিক-প্রেমিকা। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেখানে থাকার পর রিসোর্ট ত্যাগ করেন তারা।

অভিযোগকারী তরুণের দাবি, রিসোর্ট ছাড়ার পর তার হোয়াটসঅ্যাপে আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি সমাধানের জন্য পরদিন কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি রিসোর্টে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও মারামারি হয়। এ সময় তিনি দাবি করেন, ব্ল্যাকমেইল করে তার কাছ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে এবং সেই অর্থ ফেরত চান।

তবে রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই তরুণ রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। একপর্যায়ে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তিনি আবার টাকা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে টুরিস্ট পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে লিখিতভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয় এবং প্রয়োজন হলে উভয় পক্ষকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

অভিযোগকারী তরুণ সাংবাদিকদের বলেন, রিসোর্ট থেকে বের হওয়ার পর তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট করা হয়েছে এবং হোয়াটসঅ্যাপে ছবি পাঠিয়ে কখনো ৩০ হাজার, আবার কখনো ১৫ হাজার বা ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। তবে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দেওয়ার দাবি তিনি অস্বীকার করেন। তার ভাষ্য, তিনি কাউকে ওই অর্থ দেননি। এ ঘটনায় তিনি নিজে থানায় কোনো অভিযোগ করেননি বলেও জানান।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, যে মোবাইল নম্বর থেকে ছবি পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটি রিসোর্টের পাশের জেরিন চা বাগানের এক যুবকের। ঘটনার পর থেকে ওই যুবক নিখোঁজ রয়েছেন এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ বলে জানান তারা। তবে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় মাদকবিরোধী টিমের সদস্য হাফেজ আবুল হাসেম বলেন, ৯ জুলাই শহর থেকে কয়েকজন যুবক রিসোর্টে আসার পর স্থানীয়রা সেখানে উপস্থিত হন। অভিযোগে ব্যবহৃত নম্বরটি যাচাই করে সেটি স্থানীয় এক যুবকের বলে জানা গেছে। তবে প্রকৃত ঘটনা কী, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

রাধানগর ট্যুরিজম এন্ট্রাপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি তাপস দাশ বলেন, ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তারা ঘটনাস্থলে যান। বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তার ভাষ্য, অভিযোগ হিসেবে দেখানো ছবিটি রিসোর্টের দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিলছে না; তাদের কাছে এটি এআই দিয়ে তৈরি ছবি বলে মনে হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, এক তরুণ তার প্রেমিকাকে নিয়ে রিসোর্টে এসেছিলেন। তার অভিযোগ, সেখানে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে পরে স্ক্রিনশট পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়েছে। তবে স্ক্রিনশটের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার দিন স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বিষয়টি লিখিতভাবে মীমাংসা করা হয় এবং প্রয়োজনে উভয় পক্ষকে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ওই তরুণের সঙ্গে কথা বললে তিনি কোনো অভিযোগ নেই বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি ভুল-বোঝাবুঝি থেকে সৃষ্টি হয়েছিল এবং তা সমাধান হয়েছে বলে জানান তিনি। রিসোর্টটির নাম পরিবর্তনের বিষয়টি তার জানা নেই বলেও জানান ওসি।

অন্যদিকে, রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘মেঘ মালতি’ নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘বেলা শেষে’।