tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদসারাদেশবগুড়ায় একই প্রকল্পে ‘ডাবল’ বরাদ্দ!

বগুড়ায় একই প্রকল্পে ‘ডাবল’ বরাদ্দ!

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ৬টি উন্নয়ন প্রকল্পে মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে দুই দফায় মোট এক কোটি টাকা বরাদ্দের তথ্য মিলেছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের দুটি পৃথক সরকারি প্রজ্ঞাপনে প্রথমে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৫০ লাখ এবং পরে ২০২৬ সালের মে মাসে আরও ৫০ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে যেসব প্রকল্পে দ্বিতীয় দফায়ও বরাদ্দ দেখানো হয়েছে সরেজমিনে সেগুলোর অধিকাংশ কাজের দৃশ্যমান বাস্তবায়নের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

উপজেলা প্রশাসনের দাবি, দ্বিতীয় দফায় তারা ভিন্ন প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয় ভুলবশত আগের প্রকল্পগুলোর নামেই বরাদ্দ দেয়। যদিও এ দাবির পক্ষে কোনো সংশোধিত প্রজ্ঞাপন, নতুন প্রকল্প তালিকা বা আগের বরাদ্দ বাতিলের সরকারি নথি দেখাতে পারেনি তারা।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা-২ শাখা থেকে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা খাত থেকে আদমদীঘি উপজেলার ছয়টি প্রকল্পে ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পগুলো ছিল উপজেলা কৃষি অফিস পর্যন্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনের রাস্তা মেরামত, উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবন ও পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের সংস্কার এবং যমুনা ও রূপসা আবাসিক ভবনের সংস্কার। এর মাত্র পাঁচ মাস পর ২০২৬ সালের ১০ মে একই বিভাগের আরেকটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে সংশোধিত এডিপির আওতায় আবারো ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

দুটি প্রজ্ঞাপনের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভাষায় সামান্য পরিবর্তন থাকলেও প্রকল্পগুলোর ধরন প্রায় একই। প্রথম প্রজ্ঞাপনে কৃষি অফিস পর্যন্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণের কথা থাকলেও দ্বিতীয়টিতে কৃষি অফিসের সামনের রাস্তা মেরামতের কথা বলা হয়েছে। একইভাবে ইউএনওর বাসভবনের রাস্তা সংস্কারের পরিবর্তে দ্বিতীয় প্রজ্ঞাপনে অভ্যন্তরীণ রাস্তা সংস্কারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশাসনিক ভবন, পুরোনো প্রশাসনিক ভবন এবং যমুনা ও রূপসা আবাসিক ভবনের সংস্কার দুই প্রজ্ঞাপনেই রয়েছে। অর্থাৎ একই অবকাঠামো ঘিরেই দ্বিতীয় দফায় আবারো ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তবে সরকারি নথির সঙ্গে মাঠের বাস্তবতার মিল পাওয়া যায়নি। সরেজমিনে আদমদীঘি উপজেলা পরিষদ চত্বরে ঘুরে দেখা যায়, কৃষি অফিস সংলগ্ন সড়ক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনের প্রবেশপথ, প্রশাসনিক ভবন, পুরোনো প্রশাসনিক ভবন এবং যমুনা ও রূপসা আবাসিক ভবনে সাম্প্রতিক সংস্কারের দৃশ্যমান কোনো আলামত নেই। কোথাও নতুন কার্পেটিং, কংক্রিট ঢালাই কিংবা রং করার চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বরং বিভিন্ন ভবনের দেওয়ালে শ্যাওলা, খসে পড়া পলেস্তারা, আগাছা এবং দীর্ঘদিনের অবহেলার চিত্রই স্পষ্ট।

উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজের দায়িত্বকালে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনসহ কয়েকটি স্থাপনায় উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ হয়েছিল। এরপর একই স্থাপনায় আবারো দুই দফায় নতুন বরাদ্দ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।