রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে তিনি পদত্যাগ করার পর থেকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। সরকার গঠনের পর থেকেই এ পদে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সম্ভাব্যদের তালিকায় নতুন কিছু নামও যুক্ত হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা এখন অনেকটাই সীমিত হয়ে এসেছে।
সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বাইরের কোনো ব্যক্তিকে নয়, বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির কোনো সদস্যকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনো দলীয় ফোরামে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। সূত্রটির ভাষ্য, সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতির উত্তরসূরি নির্ধারণে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে নীরবে প্রস্তুতি চলছে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় আসে। তাঁদের মধ্যে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নাম ছিল উল্লেখযোগ্য। পরবর্তীতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এবং একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নামও আলোচনায় আসে।
তবে দলীয় ও সরকারের একাধিক সূত্র বলছে, বয়স, শারীরিক সক্ষমতা এবং অন্যান্য বাস্তবতার কারণে সম্ভাব্যদের তালিকায় কিছু পরিবর্তন এসেছে। গত দুই দিনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামের নাম। দলের একটি অংশ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় তাঁকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে আগ্রহী বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরেও মির্জা ফখরুল ইসলামের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে উপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলও এ বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। ‘বাংলাদেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হচ্ছেন?’ শিরোনামে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, তাঁর মতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ পদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি। শেখ হাসিনার শাসনামলে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দলের নেতৃত্ব দেওয়া, নির্যাতন-নিপীড়নের মুখেও দায়িত্ব পালন এবং তাঁর রাজনৈতিক সংযম, সৌজন্য ও বক্তৃতা দক্ষতার বিষয়গুলো তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
আসিফ নজরুল আরও বলেন, বিএনপিতে আরও যোগ্য ব্যক্তি থাকলেও সামগ্রিক বিবেচনায় মির্জা ফখরুলই এগিয়ে থাকবেন। রাজনীতিবিদদের মধ্য থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হলে তিনিই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হতে পারেন বলে তিনি মত দেন।
এর আগে ব্র্যাক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহও এক ফেসবুক পোস্টে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনার পক্ষে নিজের মতামত তুলে ধরেন।
এদিকে, মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে শপথ নেওয়া পর্যন্ত তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। জাতীয় সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীই নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে এখনো কিছু সময় রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে বর্তমানে যাঁদের নাম আলোচনায় রয়েছে, শেষ পর্যন্ত তাঁদের মধ্য থেকেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও জল্পনা অব্যাহত থাকবে।



