tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিক‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ পরিস্থিতির অবসান চান মোজতবা খামেনি

‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ পরিস্থিতির অবসান চান মোজতবা খামেনি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা এবং দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে দুই দেশের সম্পর্ক এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে।

পেজেশকিয়ানের ভাষ্য, দেশের ভেতরে কিছু সমালোচনা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা প্রত্যাশার চেয়েও ভালো অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় তেল রপ্তানি চালুর বিষয়ে যে সমঝোতা হয়েছিল, তা কার্যকর করতে ওয়াশিংটন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, অস্থিতিশীলতা তৈরির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের চেষ্টা চালানো হলেও জনগণের ঐক্য ও সংহতির কারণে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। তাঁর দাবি, সামরিকভাবে কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে না পেরেই যুক্তরাষ্ট্র আবার আলোচনার পথে ফিরতে বাধ্য হয়েছে।

পেজেশকিয়ান জানান, বর্তমানে ইরান ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’— এমন এক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থার দ্রুত অবসান চান দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সংখ্যা বেড়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো তাঁর প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসনের একটি অংশ ইরানে সরকার পরিবর্তনের পুরোনো কৌশলে ফিরে যেতে আগ্রহী। তাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ইরানের অভ্যন্তরীণ আন্দোলনকে উৎসাহ দেওয়া এবং বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা করার বিভিন্ন উপায় খোঁজা।

তবে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল নিশ্চিত করা কিংবা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে এখনো কার্যকর কোনো সমাধান বের করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। শুধু বিমান হামলা দিয়ে স্থায়ী ফল পাওয়া সম্ভব নয়, আবার স্থল অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমর্থনও ওয়াশিংটনের হাতে নেই।

অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন জেনারেল ব্যারি ম্যাকক্যাফ্রি সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে স্থল অভিযান চালাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ছয় লাখ সেনা প্রয়োজন হবে। এমন একটি সামরিক অভিযান বাস্তবায়ন করতেও প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।