tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদলের প্রস্তুতি, আসতে পারে নতুন সচিব

প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদলের প্রস্তুতি, আসতে পারে নতুন সচিব

প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদলের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। ব্যক্তিগত দক্ষতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাদারিত্বকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সিনিয়র সচিব ও সচিব পদে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, পদোন্নতি, দপ্তর পরিবর্তন, অবসর এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ—এই চার প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে ছয় থেকে ১০টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে পরিবর্তন আসতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন, ভূমি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে নতুন সচিব নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যেসব সচিবের চাকরি বা চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে, তাঁদের স্থলে নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় প্রশাসনকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে সততা, দক্ষতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে কর্মদক্ষ ও গ্রহণযোগ্য কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় রয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২৭ জুলাই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম অবসরে যাচ্ছেন। অন্যদিকে অর্থসচিব খায়রুজ্জামান মজুমদার আগামী অক্টোবরে নিয়মিত অবসরে যাবেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, এই দুই কর্মকর্তাকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব ড. নাসিমুল গনি এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের চুক্তির মেয়াদ আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহে শেষ হচ্ছে। ফলে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদেও নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র বলছে, বর্তমান ভূমিসচিব এ এস এম সালেহ আহমেদের চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হতে পারে। পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, সাবেক শিল্পসচিব ওবায়দুর রহমান, নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল আই মোহাম্মদ এবং স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা-পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর নাম আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া কয়েকজন অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতি পেয়ে সচিব হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিয়া, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মো. শাহজাহান মিয়া, মো. ফজলুর রহমান ও সেলিম খান। পাশাপাশি সাবেক সচিব জাকির হোসেন কামাল, এ কে এম ইহসানুল হক এবং মো. শেখাবুর রহমান চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে আবারও প্রশাসনে ফিরতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে মোট ৮৪ জন সিনিয়র সচিব ও সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জন বর্তমানে কোনো দপ্তরের দায়িত্বে নেই। তাঁদের মধ্যে নয়জনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছে।

সরকার গঠনের আগে জনপ্রশাসনের দুটি শীর্ষ পদে থাকা কর্মকর্তা—সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া—নিজ উদ্যোগে দায়িত্ব ছাড়েন। এছাড়া সম্প্রতি অবসরে গেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভুইয়া। শিগগিরই অবসরে যাচ্ছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী।

জনপ্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মো. কামাল উদ্দীন, জাহেদা পারভীন, মো. মফিদুর রহমান, মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, ফারজানা মমতাজ, মো. ওবায়দুর রহমান, ইসরাত চৌধুরী, মো. সাইফুল্লাহ পান্না এবং কাজী আনোয়ার হোসেন বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। ইতোমধ্যে উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব পদে ১৭৯ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমান সরকারের আমলে প্রশাসনে প্রথম বড় পদোন্নতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক বলেন, “প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ একটি চলমান প্রক্রিয়া। এসব কার্যক্রম সারা বছরই চলে। তবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বা চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকেই নেওয়া হবে।”