যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল অডিট অফিসের (এনএও) এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু রয়্যাল লজ এস্টেটের আওতাধীন কয়েকটি কটেজ অন্যদের কাছে সাব-লেট দিয়েছিলেন।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাকিংহাম প্যালেসের এক মুখপাত্র জানান, এনএওর এই পর্যালোচনাকে স্বাগত জানায় রাজপ্রাসাদ। তার ভাষ্য, প্রতিবেদনটি রয়্যাল হাউসহোল্ডের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি রাজকীয় সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রশ্নের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক তথ্য তুলে ধরতে সহায়ক হবে।
এনএওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রয়্যাল হাউসহোল্ড পরিচালিত বিভিন্ন সম্পত্তির ক্ষেত্রে অবস্থান, ব্যবহার এবং ভাড়াটিয়ার ধরন অনুযায়ী পৃথক ব্যবস্থাপনা নীতি অনুসরণ করা হয়।
অন্যদিকে, ক্রাউন এস্টেটের এক মুখপাত্র দাবি করেন, রাজপরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পাদিত সব লিজ চুক্তিই স্বাধীন পেশাদার পরামর্শ এবং বাজারমূল্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। এনএওর পর্যালোচনাও সেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সাবেক চেয়ারপারসন ব্যারোনেস মার্গারেট হজ। বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রিন্স অ্যান্ড্রু সাব-লেটের মাধ্যমে কত অর্থ আয় করেছেন তা এনএও নির্ধারণ করতে না পারা বিস্ময়কর।
তিনি আরও বলেন, প্রিন্সেস বিট্রিস, প্রিন্সেস ইউজেনি এবং প্রিন্সেস মাইকেল অব কেন্টের ক্ষেত্রে সরকারি ভর্তুকির বিষয়টিও প্রশ্নের জন্ম দেয়।
ব্যারোনেস হজের মতে, যারা রাজপরিবারের সদস্য হলেও সরকারি দায়িত্ব পালন করেন না, তাদের জন্য করদাতাদের অর্থ থেকে ভর্তুকি প্রদান কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে জনসমক্ষে আলোচনা হওয়া উচিত।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ক্রাউন এস্টেটের সম্পদ মূলত জনগণের সম্পদ। এটি কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। তাই এসব সম্পদের ব্যবস্থাপনায় করদাতাদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।



