‘বিশ্ববাসীর জন্য সুখবর আসছে’—ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি ঘিরে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্ব “সুসংবাদ” পেতে পারে।
চার দিনের সফরে বর্তমানে ভারত অবস্থান করছেন রুবিও। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তির মাধ্যমে এমন একটি প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হবে এমন একটি বিশ্বব্যবস্থা নিশ্চিত করা—যেখানে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে আর কোনো উদ্বেগ থাকবে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ পদক্ষেপের পর ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ে যে অবস্থান নিয়েছে, তা আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয়। তার দাবি, প্রস্তাবিত চুক্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ে বিরোধের সমাধান অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইসরায়েলসহ আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে আলোচনার পর ইরানের সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও পৃথকভাবে কথা বলেছেন বলে জানান।
ট্রাম্প আরও বলেন, সম্ভাব্য সমঝোতার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে। তবে ইরান তার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দেশটি কেবল পারাপারকারী জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সম্মত হয়েছে, তবে পূর্ণ মুক্ত চলাচলের কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ট্রাম্পের বক্তব্যকে “অপপ্রচার” বলে অভিহিত করেছে। তারা আরও দাবি করে, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো নতুন প্রতিশ্রুতি বা চুক্তির বিষয় এখনো নিশ্চিত হয়নি।



