পর্যটকদের জন্য ভিসানীতিতে বড় পরিবর্তন আনছে থাইল্যান্ড। ভিসামুক্ত প্রবেশের মেয়াদ কমিয়ে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। মঙ্গলবার (১৯ মে) থাই মন্ত্রিসভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে চালু থাকা ৬০ দিনের ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা বাতিল করে আবারও সর্বোচ্চ অবস্থানের সময়সীমা ৩০ দিনে নামিয়ে আনা হচ্ছে। কিছু দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এ সীমা আরও কমিয়ে ১৫ দিন করা হবে।
করোনাভাইরাস মহামারির পর পর্যটন খাতকে চাঙ্গা করতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি দেশ এবং ইউরোপের শেনজেনভুক্ত ২৯ দেশের নাগরিকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা চালু করেছিল ব্যাংকক। তবে এখন সেই নীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে।
ব্যাংককে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরকারের মুখপাত্র রাচাদা ধানাদিরেক বলেন, বর্তমান ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে কিছু বিদেশি নাগরিক অপব্যবহার করছে।
তিনি জানান, থাই অর্থনীতিতে পর্যটনের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার বিষয়টিকে এখন বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
থাই কর্তৃপক্ষের দাবি, ৬০ দিনের দীর্ঘ ভিসামুক্ত সুবিধা অনিচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অনুমতি ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা, অবৈধ বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ এবং অনলাইন প্রতারণা চক্রের বিস্তার।
নীতিনির্ধারকদের মতে, প্রকৃত পর্যটক ও উচ্চ ব্যয়ক্ষমতাসম্পন্ন ভ্রমণকারীদের জন্য ৩০ দিনের সময়সীমাই যথেষ্ট।
সাম্প্রতিক সময়ে মাদক পাচার, মানবপাচার, অনুমোদন ছাড়া হোটেল ও ভাষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগে বিদেশিদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযানের পরই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও বলেন, নতুন নীতিমালা কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে করা হয়নি। বরং যারা ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা এড়িয়ে যাচ্ছে, তাদের নিয়ন্ত্রণ করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, স্থলসীমান্ত দিয়ে বছরে সর্বোচ্চ দুইবার ৩০ দিনের ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে। ২০২৪ সালের আগে যে নিয়ম কার্যকর ছিল, সেটিই পুনরায় চালু করা হচ্ছে।
তবে নতুন বিধিনিষেধ কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি থাই সরকার।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ থাইল্যান্ডের মোট দেশজ উৎপাদনের ১০ শতাংশের বেশি আসে পর্যটন খাত থেকে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিদেশি পর্যটক আগমন আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
এ অবস্থার মধ্যেও চলতি বছরে ৩ কোটি ৩৫ লাখ বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্য বহাল রেখেছে থাই সরকার।
সূত্র: আল জাজিরা



