tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকশত শত নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে চাঞ্চল্য

শত শত নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে চাঞ্চল্য

দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের ধর্মস্থলে ভয়ঙ্কর এক অভিযোগ ঘিরে নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। পুলিশের হাতে আটক এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, শত শত নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার পর তাকে মৃতদেহগুলো গোপনে কবর দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। এ নিয়ে এলাকাজুড়ে রহস্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

বিবিসি জানায়, কর্ণাটকের বিখ্যাত শ্রী মঞ্জুনাথ স্বামী মন্দিরে প্রতিদিন হাজারো ভক্ত সমাগম করে। ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ স্থানে কর্মরত সাবেক এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী গত জুলাই মাসে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন—১৯৯৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে তিনি অসংখ্য নারী ও তরুণীর মরদেহ গোপনে সমাধিস্থ করতে বাধ্য হন। তার দাবি, এসব নারীকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছিল।

অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় গোপন রেখেছে পুলিশ। জনসমক্ষে আনা হলে সর্বদা কালো পোশাক ও মুখোশে তাকে ঢেকে রাখা হয়। প্রমাণ হিসেবে একটি মানুষের খুলি প্রদর্শন করে তিনি দাবি করেন, এটি তিনি কবর থেকে তুলেছেন। এ ঘটনার পর রাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়। রাজ্য সরকার সত্য উদঘাটনে বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করে।

এসআইটির এক কর্মকর্তার বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, ওই ব্যক্তিকে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের শুরুতে তিনি ১৩টি সম্ভাব্য কবরস্থানের কথা জানান। এসব দুর্গম এলাকায় খনন চালানো হয় এবং কিছু দেহাবশেষও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ফরেনসিক পরীক্ষার আগ পর্যন্ত সেগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। কর্মকর্তাদের মতে, অভিযুক্ত যে খুলি প্রমাণ হিসেবে দিয়েছেন, তা তার দেখানো কোনো স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়নি।

অভিযোগের পর মন্দির প্রশাসন ও এর বংশানুক্রমিক প্রধান হেগড়ে পরিবারের প্রতি সন্দেহ তৈরি হয়। তবে প্রধান প্রশাসক বীরেন্দ্র হেগড়ে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি জানান, মন্দির কর্তৃপক্ষ তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে এবং বিচার ব্যবস্থার ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে কর্ণাটক রাজ্য বিধানসভায় উত্তপ্ত বিতর্ক হয়েছে। ক্ষমতাসীন বিজেপি একে হিন্দু ধর্মীয় স্থানের বিরুদ্ধে ‘কলঙ্ক লেপনের অপচেষ্টা’ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বর বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য কাউকে রক্ষা করা নয়, সত্য উদঘাটন করা। তার ভাষায়, “যদি অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয় তবে ধর্মস্থলের মর্যাদা বাড়বে, আর সত্যি হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।”

অভিযোগকারী ব্যক্তির গ্রেপ্তারের পর তদন্ত কোন দিকে মোড় নেবে—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর আগ্রহ ও জল্পনা তৈরি হয়েছে।