বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও রাজনৈতিক নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু একজন কবি নন, তিনি বাঙালির মানবিক চেতনা, মনন ও জাতিসত্তার অন্যতম ভিত্তি।
সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী রবীন্দ্রজয়ন্তী উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, রবীন্দ্রচর্চা মানুষকে সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত করে আন্তর্জাতিক মানবতাবোধে উদ্বুদ্ধ করে। তার সাহিত্য, গান, কবিতা ও উপন্যাস মানুষের মনকে পরিশুদ্ধ ও স্নিগ্ধ করে তোলে। সমাজের নানা অপকর্ম ও বিকৃত প্রবণতা থেকে মুক্ত হতে রবীন্দ্রচর্চার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, রবীন্দ্রসংগীত মানুষের মনকে এক ধরনের স্বর্গীয় অনুভূতি দেয়। বিষণ্নতা ও মন খারাপের সময়ে এটি নতুন শক্তি ও অনুপ্রেরণা জোগায়।
রিজভী উল্লেখ করেন, বাংলা ভাষাভাষী মানুষের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও রবীন্দ্রনাথের জন্মজয়ন্তী উদযাপিত হয়, যা তার বিশ্বজনীনতারই প্রমাণ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও জাতিসত্তা গঠনে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ ও জসীমউদ্দীন আমাদের জাতিসত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারী শক্তি যখন মানুষের স্বাধীনতা সীমিত করতে চায়, তখন নজরুল বিদ্রোহের বার্তা দেন, আর রবীন্দ্রনাথ মানবতা ও সৌন্দর্যের পথে আহ্বান জানান। তাই রবীন্দ্রনাথ আমাদের জাতীয় জীবনের এক অমূল্য সম্পদ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। প্রেম, প্রার্থনা ও যাপিত জীবনে তিনি অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ আজীবন সত্যের পক্ষে ছিলেন এবং ব্রিটিশবিরোধী অবস্থানের নানা উদাহরণও তুলে ধরেন।
আলোচনা শেষে রবীন্দ্রনাথের ‘অচলায়তন’ নাটক মঞ্চায়ন করা হয়। নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন আজাদ আবুল কালাম।



