রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টা—দায়িত্ব হস্তান্তর বা পদত্যাগের পর থেকে দেশের অভ্যন্তরে সর্বোচ্চ ৬ মাস ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিভিআইপি) হিসেবে বিবেচিত হবেন।
এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই মেয়াদ এক বছর নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। তবে বর্তমান সরকার সেই সময়সীমা কমিয়ে ৬ মাস নির্ধারণ করেছে।
তবে ড. ইউনূসের ক্ষেত্রে পূর্বের এক বছরের ভিভিআইপি সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। তার ক্ষেত্রেও সময়সীমা কমানোর আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সরকার সেই সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে নতুন প্রজ্ঞাপনটি ভবিষ্যতে দায়িত্ব হস্তান্তর বা পদত্যাগকারী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান উপদেষ্টাদের ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে।
গত ২৩ এপ্রিল জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘সরকার, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১-এর ধারা ২(ক)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারিকৃত এস.আর.ও. নং ৪৬-আইন/২০২৬ অক্ষুণ্ণ রেখে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টাকে তাদের দায়িত্ব হস্তান্তর বা পদত্যাগের তারিখ থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ৬ (ছয়) মাসের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করা হলো।’
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন শেষে গত ফেব্রুয়ারিতে পদত্যাগ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দায়িত্ব ছাড়ার কয়েকদিন আগে তাকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ১০ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ সুবিধার মেয়াদ এক বছর করা হয়।
নতুন প্রজ্ঞাপন জারির আগে ড. ইউনূসের ভিভিআইপি মর্যাদার মেয়াদ ৬ মাসে নামানোর প্রস্তাবও আলোচনায় আসে। প্রস্তাবে বলা হয়, সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানরা দায়িত্ব ছাড়ার পর ৬ মাস ভিআইপি মর্যাদা পাবেন। একই সঙ্গে ড. ইউনূসকে এক বছরের জন্য ভিভিআইপি ঘোষণা করে জারি করা এসআরও (৪৬-আইন/২০২৬) বাতিলের সুপারিশ করা হয়। তবে শর্ত ছিল—প্রজ্ঞাপন বাতিল হলেও তিনি যে সুবিধাগুলো পাচ্ছিলেন, তা আগামী ১৬ আগস্ট পর্যন্ত বহাল থাকবে।
নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১’ এবং ‘রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা বিধিমালা, ২০২৫’-এ ভিভিআইপি ঘোষণার নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ নেই। অতীতে ২০০১ সালে এ মেয়াদ এক বছর থাকলেও ২০০২ ও ২০০৬ সালে তা কমিয়ে ৩ মাস করা হয়েছিল। সেই পূর্বদৃষ্টান্ত বিবেচনায় বর্তমান সরকার ৬ মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।



