tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়উদার গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হচ্ছে সরকার— মালিক-সম্পাদকদের প্রশংসা

উদার গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হচ্ছে সরকার— মালিক-সম্পাদকদের প্রশংসা

এমন মন্তব্য করে সরকারের অবস্থানের প্রশংসা করেছেন সংবাদপত্রের মালিক ও সম্পাদকরা। একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে গণমাধ্যমও সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

গতকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)-এর নেতৃবৃন্দ এ মত প্রকাশ করেন। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকার সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ হতে চায় না এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারেও এ অবস্থান প্রতিফলিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকের শুরুতে নোয়াবের সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী সংবাদপত্র শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং সেগুলোর সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি নিয়মিত যোগাযোগ বাড়াতে প্রতি তিন মাস অন্তর সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহও প্রকাশ করেন।

সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াব নেতৃবৃন্দের মধ্যে মতিউর রহমান চৌধুরী ছাড়াও প্রথম আলো সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, দৈনিক সমকাল-এর প্রকাশক এ কে আজাদ, ইনকিলাবের সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন, নিউ এজ-এর এডিটোরিয়াল বোর্ডের চেয়ারম্যান এএসএম শহীদুল্লাহ খান, সংবাদ সম্পাদক ও প্রকাশক আলতামাশ কবির, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর প্রকাশক নাসিম মনজুর, করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক এবং পূর্বকোণ সম্পাদক ডা. রমীজউদ্দিন চৌধুরী অংশ নেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (ছালেহ শিবলী) ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সংবাদপত্র শিল্প বর্তমানে নানা ধরনের—বিশেষ করে অর্থনৈতিক—চাপের মধ্যে রয়েছে। শিল্পটি টিকে থাকবে কি না, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে এবং তিনি আন্তরিকভাবে সব শুনেছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী একসময় একটি সংবাদপত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তাই এই শিল্পের সমস্যা সম্পর্কে তাঁর ভালো ধারণা রয়েছে। নোয়াবের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তিনি গ্রহণ করেছেন এবং বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে বলেও জানিয়েছেন।

নোয়াব সভাপতি জানান, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চলমান মামলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, যেসব ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃতভাবে বা অকারণে মামলা রয়েছে, সেগুলো বিবেচনা করা হবে এবং জামিনের সুযোগ আছে কি না তা দেখা হবে।

এছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাছে সংবাদপত্রের বকেয়া বিল পরিশোধের বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

ওয়েজ বোর্ড নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সরকার তা বিবেচনা করবে।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো নিয়মিত বৈঠকের উদ্যোগ। অতীতে এত ঘনঘন সম্পাদক ও মালিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতি তিন মাস অন্তর এ ধরনের বৈঠক হলে গণমাধ্যম ও সরকারের মধ্যে দূরত্ব কমবে বলে তিনি মনে করেন।

সূত্র জানায়, বৈঠকের শুরুতে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের জন্য নোয়াবের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানানো হয়।

নোয়াবের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনের বর্তমান যুগে গণমাধ্যম এখনো জনগণের আস্থার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রিন্টসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম আর্থিক সংকটে রয়েছে। এ অবস্থায় নতুন সরকারের কাছে তারা সহনশীল ও আন্তরিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রত্যাশা করেন। পাশাপাশি সংবাদপত্রের প্রধান কাঁচামাল কাগজ আমদানিতে শূন্য শুল্ক আরোপের অনুরোধও জানানো হয়।