tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদসারাদেশ‘ট্রাম্প পাগল, মানসিক ভারসাম্যহীন’ বললেন মার্কিন রাজনীতিকরা

‘ট্রাম্প পাগল, মানসিক ভারসাম্যহীন’ বললেন মার্কিন রাজনীতিকরা

ইরানকে অশালীন ভাষায় হুমকি দেওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প-এর মানসিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে উদ্দেশ করে কড়া ভাষায় মন্তব্য করেন এবং দেশটির জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামোয় হামলার হুমকিও দেন। তার ওই বক্তব্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নতুন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন পথ এই প্রণালি, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং তেলের দাম বেড়েছে। এদিকে ইউরোপ ও ন্যাটো মিত্রদের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।

ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের যোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা মেহদি তাবাতাবাই বলেন, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় পরিশোধ না করা পর্যন্ত ইরান প্রণালি খুলবে না। তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে হতাশা ও ক্ষোভ থেকে আসা ‘অশালীন ও অর্থহীন’ মন্তব্য বলে অভিহিত করেন।

মার্কিন রাজনীতিবিদদের প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের সাবেক মিত্র ও কংগ্রেসওম্যান মার্জোরি টেইলর গ্রিন তার কড়া সমালোচনা করে বলেন, প্রেসিডেন্টের আচরণ ‘উন্মাদনার’ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং প্রশাসনের উচিত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতিরও সমালোচনা করেন।

সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার ট্রাম্পের আচরণকে ‘উন্মত্ত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে এবং মিত্রদের দূরে ঠেলে দিচ্ছে।

স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স  ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘বিপজ্জনক ও মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন’ বলে মন্তব্য করেন এবং যুদ্ধ বন্ধে কংগ্রেসের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

সিনেটর ক্রিস মারফিও ট্রাম্পের আচরণকে ‘সম্পূর্ণ উন্মত্ত’ বলে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের প্রসঙ্গ তোলেন।

ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রো খান্না বলেন, ট্রাম্পের এমন বক্তব্য মার্কিন সেনাদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন।

এছাড়া সিনেটর টিম কেইন  ট্রাম্পকে সংযত ভাষা ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তার বক্তব্য ‘লজ্জাজনক ও অপরিণত’, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান এই উত্তেজনা কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।