মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে দুবাই বন্দরে অবস্থানরত একটি বাংলাদেশি জাহাজের ক্যাপ্টেন জানিয়েছেন, প্রতিদিনই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতি এবং দূরে বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কের মধ্যে সময় কাটছে তাদের। তবে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক মনে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ থেকে এ অভিজ্ঞতার কথা জানান জাহাজটির ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম খান। বৃহস্পতিবার বিকেলে হোয়াটসঅ্যাপে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “প্রতিদিনই আকাশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আনাগোনা থাকে। দূরে কোথাও বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায়। তবে আজ পরিস্থিতি কিছুটা ভালো মনে হচ্ছে। সত্যি বলতে, এতদিন জান হাতে নিয়েই আছি।”
জানা গেছে, জাহাজটিতে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটছে তাদের। কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। পরদিন বন্দরের ১০ নম্বর টার্মিনালে নোঙর করার পরই অঞ্চলে সংঘাত শুরু হলে পরিস্থিতি বদলে যায়।
ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান জানান, সংঘাত শুরুর প্রথম দিনেই জাহাজের খুব কাছাকাছি একটি তেলের স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নাবিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই জাহাজের ভেতরে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। বর্তমানে ৯ নম্বর টার্মিনালে জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের কাজ চলছে। বন্দরে প্রায় ১০০টি জাহাজ রয়েছে এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। পণ্য খালাস শেষ হতে আরও চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে। এরপর জাহাজটির পরবর্তী গন্তব্য কুয়েত।
তিনি আরও জানান, শিপিং করপোরেশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং বাংলাদেশ দূতাবাস নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। প্রয়োজনে নাবিকদের হোটেলে চলে যেতে বলা হলেও তারা জাহাজেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ক্যাপ্টেন বলেন, “জাহাজটি আমাদের দেশের সম্পদ। আমরা এটি ফেলে যেতে চাই না।”
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, জাহাজে থাকা নাবিকদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার, পানি ও জ্বালানি রয়েছে। তিনি বলেন, “নাবিকরা নিরাপদে আছেন এবং পণ্য খালাসের কাজ চলছে। তাদের সঙ্গে আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি এবং মনোবল ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। ওই ঘটনায় জাহাজটির প্রকৌশলী হাদিসুর রহমান নিহত হন।



