ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমে সাময়িক বিরতির ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটির সাবেক কৌশলগত বিষয়ক উপ-সহসভাপতি সাসান কারিমি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আস্থা গড়ে তুলতে তেহরান উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অস্থায়ীভাবে স্থগিত রাখার কথা বিবেচনা করতে পারে।
বৃহস্পতিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কারিমি বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে ইরানের কৌশলগত কিছু সুবিধা রয়েছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি মৌলিক অভিন্ন অবস্থান আছে—ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করবে না। এই অবস্থান সাময়িকভাবে মেনে নিয়ে আস্থার পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সমঝোতার পথ সুগম করতে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধকরণ কিছু সময়ের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব ইরান দিতে পারে। তবে তা নিঃশর্ত হবে না; এর বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হবে।
ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিষয়ে কারিমি স্পষ্ট করে জানান, এটি কোনোভাবেই আলোচনার টেবিলে তোলা যাবে না—বিশেষ করে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে। তার ভাষায়, বিশ্বের অন্য স্বাভাবিক দেশগুলোর মতো ইরানেরও প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা থাকা উচিত, যাতে প্রয়োজন হলে আত্মরক্ষামূলক জবাব দেওয়া যায়।
এদিকে পারমাণবিক চুক্তি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তৃতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে প্রথম দফার আলোচনা শেষ হয়েছে এবং পরবর্তী ধাপ নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা Reuters এক প্রতিবেদনে জানায়, জেনেভায় নির্ধারিত আলোচনার আগে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় সক্রিয় করার অভিযোগ তোলেন।



