tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদরাজনীতিআমাদের যুবসমাজ বর্তমানে হতাশ : নজরুল ইসলাম খান

আমাদের যুবসমাজ বর্তমানে হতাশ : নজরুল ইসলাম খান

আমাদের যুবসমাজ বর্তমানে হতাশ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, তরুণদের মনে বহু আক্ষেপ ও প্রত্যাশা জমে আছে। সেই প্রত্যাশা পূরণের উদ্যোগ নিলেই হতাশা কাটবে এবং নতুন আশার সঞ্চার হবে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনী বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর চ্যাম্পিয়ন, রানারআপ ও অন্যান্য বিজয়ী দলের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী বিশাল শক্তি। এই শক্তিকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে পারলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বদলে যাবে এবং বিশ্বমঞ্চে দেশ আরও দৃঢ় অবস্থান নিতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, একুশ আমাদের জাতীয় জীবনে গভীর তাৎপর্য বহন করে। একুশের চেতনার ধারাবাহিকতায় ’৬৯, ’৭১, ’৯০ ও ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে, যা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের অংশ। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; দীর্ঘ সময় পর জনগণ গণতান্ত্রিক চর্চার সুযোগ পেয়েছে।

অতীতে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দলীয়করণ, আত্মীয়করণ, দুর্নীতি ও অযোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার কারণে রাষ্ট্রব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকারকে সেই পরিস্থিতির মধ্য থেকেই কাজ শুরু করতে হচ্ছে। তাই যুবসমাজের হতাশা দূর করে তাদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ছিল নাগরিক মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার নির্বাচন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে নবগঠিত সরকার গণতন্ত্র, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, নতুন সরকারের প্রাথমিক কিছু সিদ্ধান্ত—সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করা, সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক আয়োজন, এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি না নেওয়া এবং সরকারি প্লট গ্রহণ না করা—ইতিবাচক সূচনার বার্তা দেয়। তবে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগে আস্থা ফেরানো, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্টেট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান, অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান, অধ্যাপক ড. আফরোজা বেগম এবং অধ্যাপক সিক্তা দাস।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, প্রথম রানারআপ ইডেন মহিলা কলেজ এবং দ্বিতীয় রানারআপ তেজগাঁও কলেজ।

শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয়েছেন ইডেন মহিলা কলেজের বিতার্কিক মাসনুন নাবিলাহ আলম।

পুরস্কার হিসেবে চ্যাম্পিয়ন দল পেয়েছে ২ লাখ টাকা, প্রথম রানারআপ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় রানারআপ ১ লাখ টাকা। এছাড়া বিজয়ী দলগুলোকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়। শ্রেষ্ঠ বক্তাকে প্রদান করা হয় ৫০ হাজার টাকা, ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র।