tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ

আজ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হলো। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে রাজধানীসহ সারা দেশে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক কর্মসূচি।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। একুশের প্রথম প্রহরে সেখানে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

ভোরে আজিমপুর কবরস্থান-এ ভাষা শহীদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও কোরআনখানির আয়োজন করা হয়। দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির ও উপাসনালয়ে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন রয়েছে। দিবসটি ঘিরে রাজধানীর নিরাপত্তায় ডিএমপির প্রায় ১৫ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি র‍্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সারা দেশে দায়িত্ব পালন করছে।

১৯৫২ সালের এই দিনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর তৎকালীন পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। এতে সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর ও জব্বারসহ কয়েকজন ছাত্র শহীদ হন। তাদের আত্মত্যাগের স্মরণেই দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হয়।

তৎকালীন পূর্ব বাংলার রাজধানী ঢাকায় ১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয়। ১৯৪৮ সালের মার্চে আন্দোলন সীমিত আকারে বিস্তৃত হয় এবং ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তা চূড়ান্ত রূপ নেয়। সেদিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থীরা ১৪৪ ধারা অমান্য করে মিছিল বের করলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানান।

শহীদদের স্মরণে মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে গায়েবি জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতারাতি সেখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হলেও ২৬ ফেব্রুয়ারি তা ভেঙে ফেলে তৎকালীন সরকার। তবে এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন আরও বেগবান হয়।

১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিজয়ী হলে ৭ মে গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাংলাকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরে ১৯৮৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে ‘বাংলা ভাষা প্রচলন বিল’ পাস হয়, যা ৮ মার্চ থেকে কার্যকর হয়।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১০ সাল থেকে প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে।