আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোথাও ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা হলে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, কেউ ভোটকেন্দ্র দখলের অপচেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের শাহাবউদ্দিন মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী, রেঞ্জ ডিআইজি, সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ র্যাব, বিজিবি, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, থানা থেকে লুট হওয়া সব অস্ত্র এখনো পুরোপুরি উদ্ধার হয়নি; কিছু বৈধ ও অবৈধ অস্ত্র বাইরে রয়েছে। তবে এসব অস্ত্র নির্বাচনের ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
নির্বাচনের স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল গোপন রাখার কোনো সুযোগ থাকবে না। ভোট গণনা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রার্থীদের মোবাইল ফোনে এবং নির্ধারিত অ্যাপের মাধ্যমে ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে না। বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা, আচরণবিধি ও সংশ্লিষ্ট আইন-কানুন কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগে সততা, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। পূর্ববর্তী নির্বাচনে অনিয়মে জড়িত, বিতর্কিত বা পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে চিহ্নিত কোনো কর্মকর্তাকে নির্বাচনি দায়িত্বে রাখা যাবে না বলেও জানান।
সভায় জানানো হয়, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ–২০২৬’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
এ মতবিনিময় সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের সব জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আঞ্চলিক ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।



