tanaka

জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে তানজিম ইবনে ওয়াহাবের নিয়োগ নবায়ন

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে তানজিম ইবনে ওয়াহাবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ আরও এক বছরের জন্য নবায়ন করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে...
প্রচ্ছদজাতীয়নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে আমরা প্রস্তুত: ধর্ম উপদেষ্টা

নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে আমরা প্রস্তুত: ধর্ম উপদেষ্টা

নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে ঘরে ফেরার জন্য আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত—এমন মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকেই বিদায়ের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় আসবেন, তাদের হাতেই ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাসাবোর ধর্মরাজিকা বৌদ্ধ মহাবিহার মিলনায়তনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ভবেশ চাকমার সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার এবং ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন।

ধর্ম উপদেষ্টা ড. খালিদ হোসেন বলেন, এ দেশে একবার ক্ষমতায় গেলে নানা কৌশলে তা ধরে রাখার একটি দুঃখজনক প্রবণতা রয়েছে। তবে আমরা সে পথ অনুসরণ করছি না। ইতোমধ্যে আমাদের অনেক উপদেষ্টা তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করেছেন। আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত—নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে ঘরে ফিরে যেতে।

তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে ভবিষ্যতে দেশে আর স্বৈরতন্ত্রের জন্ম হবে না। এতে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত হবে এবং দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে। এ লক্ষ্যে তিনি সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন ভোটারদের দুটি ব্যালট দেওয়া হবে—একটি সাদা এবং অন্যটি গোলাপি। সাদা ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। আর গোলাপি ব্যালটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিরা কীভাবে দেশ পরিচালনা করবেন, সে বিষয়ে একটি দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবেন। তিনি স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

জুলাই সনদের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েই মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু গত ৫৪ বছরে আমরা সে লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছি। কখনও সংবিধানকে উপেক্ষা করে, আবার কখনও সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণের ওপর নিপীড়নমূলক শাসন চালানো হয়েছে। একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় আরও বক্তব্য দেন রমনার সেন্ট মেরী’স ক্যাথেড্রাল চার্চের প্রধান পালক ফাদার আলবার্ট টমাস রোজারিও, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি পিউস কস্তা।