সাভারে ছয় জনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার মূল আসামি সিরিয়াল কিলার সম্রাটের প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। তার বাবার নাম পান্না শেখ। সবুজ শেখ মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে দ্বিতীয়।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালেই ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সম্রাটের দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, সবুজ শেখ নিজ পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন স্থান থেকে ভবঘুরে নারীদের নিয়ে আসে এবং নির্জন স্থানে তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করত। যদি কেউ অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করত বা অনৈতিক কাজ করত, তাহলে তাকে হত্যা করত।
পুলিশ জানায়, সর্বশেষ ঘটনায় তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে তরুণীকে কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে আসা হয়। তার সঙ্গে অন্য যুবক অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করলে প্রথমে যুবককে হত্যা করে সম্রাট, এরপর তরুণীকে নিচতলায় হত্যা করে এবং লাশ পুড়িয়ে দেয়।
সম্রাট সোমবার আদালতে ৬টি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে এবং তাকে ১০ দিনের রিমান্ডের জন্য পুলিশ আদালতে পাঠিয়েছে। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন।
সাভার মডেল থানার আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে ঘুরে বেড়ানো সম্রাট নিজেকে ‘কিং সম্রাট’ বা ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ বলে দাবি করত। তিনি মূলত সাভার মডেল থানার সামনে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাব-রেজিস্ট্র অফিস, কমিউনিটি সেন্টার ও পাকিজার মোড় এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন এবং রাত যাপন করতেন।
সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আরমান আলী জানান, সম্রাট একজন বিকৃতরুচির ব্যক্তি এবং সাইকোপ্যাথিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন, তিনি কয়েক বছর ধরে আশেপাশের এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন, বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা নিতেন এবং প্রায়শই অশোভন আচরণ করতেন।
ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “সম্রাটের খুনের কারণ হিসেবে একাধিক দাবি রয়েছে। তবে তার বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।”



