ভোলার মনপুরায় এক নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে করা মামলায় ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক এক সভাপতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তির নাম মো. মাকছুদ। তিনি হাজিরহাট ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি। এ মামলায় তাঁর সঙ্গে আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—রাসেল, তৈয়ব, সোহেল, ফজলু ও লাভলী বেগম। তাঁদের সবার বাড়ি হাজিরহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে।
পুলিশ জানায়, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে থানার সামনে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগী নারী ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। দুপুর ৩টার দিকে মামলার প্রধান আসামি মাকছুদকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাওনা টাকা চাইতে হাজিরহাট বাজারে যান ওই নারী। এ সময় থানার সামনে মাকছুদের নেতৃত্বে আসামিরা তাঁকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁর শাড়ি টেনে ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গ্রেফতার মাকছুদের ভাতিজা সুমন ও মামুনের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে যুবদলের একটি পক্ষ ওই নারীকে দিয়ে মামলা করিয়েছে।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী নারী বলেন, পাওনা টাকা চাইতে গেলে যুবদল নেতা মাকছুদের নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন তাঁকে মারধর ও হেনস্তা করেন। এর আগেও মাকছুদ তাঁকে মারধর করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নকে জানানোর পর মাকছুদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।
মনপুরা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন মোল্লা বলেন, নারীকে হেনস্তার অভিযোগে অভিযুক্ত মাকছুদ বর্তমানে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। তবে তিনি যে কাজ করেছেন, তা নিন্দনীয়।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, ওই নারীকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি মাকছুদকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।



