tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের বৈঠক

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের বৈঠক

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান গত ৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি মিস অ্যালিসন হুকার এবং সহকারী পররাষ্ট্র সচিব মি. পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা ইস্যু এবং আঞ্চলিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়।

আন্ডার সেক্রেটারির সঙ্গে বৈঠকে ড. রহমান আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে মিস হুকারকে অবহিত করেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে, বিশেষ করে নির্বাচন প্রক্রিয়ায়, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জবাবে মিস হুকার বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তার দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত রাখছে এবং ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করছে।১৫ জানুয়ারি দিনগত রাত সোয়া ১২টায় প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, ৯ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি হালনাগাদ করা হয়েছে এবং এতে অতিরিক্ত তথ্য সংযোজন করা হয়েছে।

তিনি জানান, ৯ জানুয়ারির বৈঠকে ড. রহমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে কৃষিপণ্য আমদানির উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি এবং পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি সাম্প্রতিক ভিসা বন্ডের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ সহজ করার অনুরোধ জানান এবং সম্ভব হলে স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক ভিসা (বি-১) থেকে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভিসা বন্ডের আওতামুক্ত করার আহ্বান জানান। মিস হুকার জানান, ভবিষ্যতে যদি পর্যটকদের ওভারস্টে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বন্ড-সংক্রান্ত শর্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারে। তিনি অনথিভুক্ত বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।

ড. রহমান বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বড় দাতা এবং এই সহায়তা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান।

মিস হুকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে বড় ধরনের দায়িত্ব বহন করছে, তার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি এই সংকটের সমাধানে ব্যাপকভিত্তিক দায়িত্ব ভাগাভাগির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন এবং যত দিন রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অবস্থান করবে, ততদিন তাদের জন্য জীবিকাভিত্তিক সুযোগ সম্প্রসারণের অনুরোধ জানান।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. রহমান বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য ডিএফসি (ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন) অর্থায়নে প্রবেশাধিকার দেওয়া এবং বাংলাদেশে সেমিকন্ডাক্টর উন্নয়নে অর্থায়নের সুযোগ বিবেচনার অনুরোধ জানান। আন্ডার সেক্রেটারি হুকার এসব প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দেন।