আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৭০টি আপিলের মধ্যে ৫২টি আপিল মঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর ফলে ৫১ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। অন্যদিকে ১৫টি আপিল নামঞ্জুর করা হয়েছে এবং তিনটি আপিলের শুনানি মুলতবি রাখা হয়েছে।
শনিবার আপিল শুনানি শেষে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, মোট ৭০টি আপিলের মধ্যে ৫২টি মঞ্জুর করা হয়েছে, ১৫টি নামঞ্জুর করা হয়েছে এবং তিনটি আপিল মুলতবি রাখা হয়েছে। মুলতবি থাকা আপিলগুলোর মধ্যে একটি রোববার বিকাল ৫টা পর্যন্ত এবং বাকি দুটি আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। এসব আপিলে তথ্যগত কিছু অসঙ্গতি থাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, মঞ্জুর হওয়া ৫২টি আপিলের মধ্যে ৫১টি ছিল মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে। এর ফলে এসব প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। অপর একটি আপিল ছিল মনোনয়নপত্র গ্রহণের আদেশের বিরুদ্ধে, যা মঞ্জুর হওয়ায় একজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।
শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে আপিল শুনানি শুরু হয়। দুপুরে এক ঘণ্টা বিরতির পর বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে পুরো কমিশন শুনানি গ্রহণ করে।
শুনানিতে আপিলকারী বা তাদের আইনজীবীরা যুক্তি উপস্থাপন করেন। অপরদিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা বা তাদের প্রতিনিধিরা মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের কারণ তুলে ধরেন। শুনানি শেষে আপিলের রায় তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা করা হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারায় অনেক প্রার্থী প্রার্থিতা ফিরে পান, আর যারা তা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন তাদের প্রার্থিতা বহালভাবে বাতিল থাকে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামানের মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে এর বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল মঞ্জুর হওয়ায় তার প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।
অন্যদিকে, আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে আপিল মঞ্জুর হয়েছে। দেশে ও বিদেশে যারা দোয়া করেছেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।
এ ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের প্রার্থী এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদও আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। মামলার তথ্য গোপনের অভিযোগে আগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল। শুনানি শেষে তার আইনজীবী সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মো. রুহুল আমিন মল্লিক আরও জানান, নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। শনিবার ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিলের শুনানি হয়েছে। রোববার ৭১ থেকে ১৪০, সোমবার (১২ জানুয়ারি) ১৪১ থেকে ২১০ এবং মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী শুনানির তারিখ পরে জানানো হবে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, শুনানি শেষে আপিলের ফলাফল মনিটরে প্রদর্শন করা হবে। একই সঙ্গে রায়ের পিডিএফ কপি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পক্ষগুলোর ই-মেইলে পাঠানো হবে এবং নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন ভবনের অভ্যর্থনা ডেস্ক থেকেও রায়ের অনুলিপি বিতরণ করা হবে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। গত ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ের শেষ দিনে ৩শ’ আসনে দাখিল করা ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২টি বৈধ এবং ৭২৩টি বাতিল ঘোষণা করা হয়।



