tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়আজ ৭ মার্চ

আজ ৭ মার্চ

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ, দিনটি ছিল রোববার। বাঙালির ইতিহাসের এক চূড়ান্ত মাহেন্দ্রক্ষণ। তবে ইতিহাসে অমর হয়ে থাকা বিকেলের ভাষণের আগে সেদিনের সকাল ছিল অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক কৌশলের এক জটিল সময়। ঢাকার রাস্তাঘাটে যেমন উত্তেজনা ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছিল, তেমনই মানুষের হাতে থাকা সকালের সংবাদপত্রগুলোতেও ফুটে উঠেছিল সেই অস্থির সময়ের প্রতিচ্ছবি।

আগের দিন ৬ মার্চ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান রেডিও ভাষণে আকস্মিকভাবে ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার পর পুরো দেশজুড়ে নতুন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ শুরু হয়। ফলে ৭ মার্চের সকালের পত্রিকাগুলো হয়ে ওঠে একদিকে রাজনৈতিক কৌশলের প্রতিফলন, অন্যদিকে বিকেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কী ঘোষণা দেবেন- সেই প্রতীক্ষার দলিল। সেদিন ঢাকা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ছিল- ‌‘২৫শে মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান: আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটির জরুরি বৈঠক’। ইয়াহিয়া খানের ঘোষণার খবরটিকেই পত্রিকাটি প্রধান গুরুত্ব দিয়েছিল। কারণ, এটি ছিল সামরিক সরকারের নতুন রাজনৈতিক পদক্ষেপ, যা পরিস্থিতিকে সাময়িকভাবে আলোচনার পথে ফেরানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছিল।সংবাদে জানানো হয়, এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয় যে বিকেলে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য জনসভায় বঙ্গবন্ধু তার পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান ও সিদ্ধান্ত জাতির সামনে তুলে ধরবেন। ফলে সকালের পত্রিকা পড়েই মানুষ বুঝতে পারছিল, বিকেলের জনসভাটি হতে যাচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

সংবাদপত্রের পাতায়ও থমথমে পরিবেশ
৭ মার্চের পত্রিকাগুলো পড়লে স্পষ্ট বোঝা যায় যে সংবাদমাধ্যম তখন এক ধরনের চাপা উত্তেজনার মধ্যে কাজ করছিল। সামরিক শাসনের কঠোর সেন্সরশিপ থাকায় অনেক বিষয় সরাসরি বলা সম্ভব ছিল না, কিন্তু সংবাদ ও বিশ্লেষণের ভেতর দিয়ে পরিস্থিতির গুরুত্ব পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছিল।

সরকারি ঘরানার দৈনিক মর্নিং নিউজ বা অন্যান্য পত্রিকাগুলো পরিস্থিতিকে তুলনামূলক সংযত ভাষায় তুলে ধরলেও জনসভার প্রস্তুতি এবং রাজনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনার খবর প্রকাশ করেছিল।অন্যদিকে ইংরেজি দৈনিক পাকিস্তান অবজারভার সম্পাদকীয় ও বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছিল যে সেদিন পুরো বিশ্বের দৃষ্টি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের দিকে নিবদ্ধ। বিদেশি সাংবাদিকদের ঢাকায় অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আগ্রহের বিষয়টিও সেদিনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল।  

বিজ্ঞাপনেও প্রতিবাদের ভাষা
৭ মার্চের পত্রিকাগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল সাধারণ মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ। সংবাদপত্রের পাতায় বিভিন্ন সংগঠন, পেশাজীবী গোষ্ঠী এবং প্রতিষ্ঠান ছোট ছোট বিজ্ঞপ্তি ও বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে জনগণকে বিকেলের জনসভায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতি তাদের বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা দিয়েছিল যে তারা অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে দোকানপাট বন্ধ রাখবে। ছাত্র সংগঠনগুলো জনগণকে দলে দলে রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। একইভাবে শিল্পী, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরাও আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বার্তা প্রকাশ করেছিলেন।

এসব বিজ্ঞাপন ও আহ্বান থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে- সংবাদপত্র তখন শুধু তথ্য প্রচারের মাধ্যম ছিল না; আন্দোলনের সামাজিক সংগঠক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল। 

সম্পাদকীয়তে সাংকেতিক বার্তা
সেদিনের সম্পাদকীয়গুলো পড়লে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে ওঠে, সরাসরি রাজনৈতিক ঘোষণা না থাকলেও জনগণের উদ্দেশ্যে এক ধরনের সাংকেতিক বার্তা দেওয়া হচ্ছিল। সংবাদপত্রগুলো জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও একই সঙ্গে পরিস্থিতির গুরুত্ব এবং ঐতিহাসিক দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিল।