tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়৬ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, চট্টগ্রামে তীব্র লোডশেডিং

৬ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, চট্টগ্রামে তীব্র লোডশেডিং

চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ৬টি বন্ধ রয়েছে। সচল আছে ২২টি কেন্দ্র, তবে তাতেও চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। নগরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্বে রয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস)।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামে ভয়াবহ লোডশেডিং শুরু হয়েছে। অনেক এলাকায় টানা এক ঘণ্টাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকছে না। বিদ্যুৎ না থাকায় ওয়াসার পানি তোলাও ব্যাহত হচ্ছে, ফলে নগরবাসী পানির সংকটে পড়েছেন।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চলের গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও নাজুক। কোথাও কোথাও দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। সেচ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় কৃষি উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিল্প-কারখানায় উৎপাদন কমে যাচ্ছে উল্লেখযোগ্য হারে।

মফস্বল ও উপজেলা এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। অনেক জায়গায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ মিলছে না। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। বর্তমানে চট্টগ্রামে বিদ্যুতের ঘাটতি ২০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, জ্বালানি সংকটের কারণে বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট ২ (৪৬ মেগাওয়াট), ৩ (৫০ মেগাওয়াট) ও ৫ (৫০ মেগাওয়াট) বন্ধ আছে। কাপ্তাই-৪ ইউনিট থেকে উৎপাদন হচ্ছে ৮০ মেগাওয়াট। এছাড়া রাউজান-১ ও রাউজান-২ (প্রতিটি ২১০ মেগাওয়াট) কেন্দ্র এবং জুডিয়াকের ৫৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কেন্দ্রও বন্ধ রয়েছে।

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া এবং জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। ফলে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে এবং লোডশেডিং বাড়ছে।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল চট্টগ্রামে অফ-পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১,৩৮৪ দশমিক ৯ মেগাওয়াট এবং পিক সময়ে ১,৪৩২ দশমিক ৭৩ মেগাওয়াট। ওইদিন অফ-পিকে ১১১ দশমিক ০৯ মেগাওয়াট এবং পিক সময়ে ১৭০ দশমিক ৭৩ মেগাওয়াট লোডশেডিং দেখানো হলেও বাস্তবে তা ২০০ মেগাওয়াটের বেশি ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশে সাধারণত বিকাল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পিক আওয়ার হিসেবে ধরা হয়, যখন বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ থাকে। আর রাত ১১টা থেকে পরদিন বিকাল ৫টা পর্যন্ত অফ-পিক আওয়ারে চাহিদা তুলনামূলক কম থাকে।

নগরীর পাথরঘাটা, আসকারদিঘীর পাড়, হালিশহর, কালুরঘাট ও বায়েজিদ বোস্তামীসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলে এর প্রভাব বেশি পড়েছে—অনেক কারখানায় উৎপাদন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। জেনারেটর চালিয়েও পরিস্থিতি পুরোপুরি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।

কালুরঘাট শিল্প এলাকার একটি গার্মেন্টস কারখানার মালিক জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরেই একাধিকবার লোডশেডিংয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।

এদিকে, ১৭ ও ১৮ এপ্রিল নগরীর প্রায় অর্ধেক এলাকায় নির্ধারিত সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার নোটিশ দেওয়া হয়। এতে উন্নয়ন, জরুরি মেরামত ও সংরক্ষণ কাজের কথা বলা হলেও অনেক গ্রাহক এটিকে লোডশেডিং আড়াল করার কৌশল বলে অভিযোগ করছেন।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন দক্ষিণ চট্টগ্রামের আট উপজেলায় পরিস্থিতি আরও খারাপ। এসব এলাকায় প্রতিদিন ১২ ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। প্রায় ৭ লাখ গ্রাহক এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন।

চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকবর হোসেন জানান, ২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬টি বন্ধ থাকায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে পিক ও অফ-পিক—উভয় সময়েই লোডশেডিং হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।