হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের নামের আগে ‘ডাক্তার (ডা.)’ পদবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে হোমিওপ্যাথিক স্বার্থ সংরক্ষণ জাতীয় কমিটি।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি জানায়, গত ১০ আগস্ট স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের চিকিৎসা শিক্ষা-২ শাখা থেকে জারি করা নির্দেশনায় এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রিধারী ছাড়া অন্য চিকিৎসকরা ‘ডা.’ পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না বলা হয়েছে। এ নির্দেশনা বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শিক্ষা আইন-২০২৩-এর পরিপন্থি ও বিভ্রান্তিকর।
কমিটির আহ্বায়ক ডা. আরিফুর রহমান মোল্লা বলেন, আইনের ধারা ২(১৩) অনুযায়ী হোমিও চিকিৎসকদের নামের আগে ‘ডা.’ পদবি ব্যবহারের বৈধ অনুমোদন রয়েছে। একই আইনের ৩নং ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, অন্য কোনো আইনে যা-ই থাকুক, হোমিওপ্যাথি আইনের বিধানই প্রাধান্য পাবে। তিনি আরও বলেন, হাইকোর্টের যে রায়ের কথা বলা হচ্ছে তা এখন সুপ্রিম কোর্টের আপিলে বিচারাধীন, ফলে এ যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্বের বহু দেশেই হোমিও চিকিৎসকরা বৈধভাবে ‘ডা.’ পদবি ব্যবহার করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়:
- ১০ আগস্টের নির্দেশনা প্রত্যাহার ও হোমিও চিকিৎসকদের হয়রানি বন্ধ।
- হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শিক্ষা আইন-২০২৩ দ্রুত কার্যকর ও শিক্ষা কাউন্সিল গঠন।
- বেসরকারি হোমিও মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকদের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী শতভাগ বেতন-ভাতা প্রদান।
- বিদেশ থেকে মানসম্মত ওষুধ আমদানিতে জটিলতা দূরীকরণ।
- জাতীয় পর্যায়ে গবেষণাগার স্থাপন ও সরকারি কলেজে গবেষণা কর্মী বাড়ানো।
- প্রকল্পভুক্ত হোমিও চিকিৎসকদের পদ রাজস্ব খাতে স্থানান্তর।
কমিটির সদস্য সচিব ডা. শফিকুল আলম নাদিম বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবায় প্রায় ৩০ শতাংশ রোগীর চিকিৎসা দেন হোমিও চিকিৎসকরা। অথচ বারবার এ পদ্ধতিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হচ্ছে। সরকারের উচিত আইন মেনে তাদের অধিকার নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দীন শেখ, ডা. বজলুল হাসান, ডা. মাহবুব হাফিজ, ডা. মসিউজ্জামান পাপ্পু, ডা. একেএম জাকির হোসেন, ডা. মজিবুল্যাহ মজিবসহ অনেকে।



