tanaka

এশিয়ান গেমস • কাবাডিতে কোরিয়া বধের পর বাংলাদেশের চোখ পদকে

এশিয়ান গেমসে পুরুষ কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে লাল-সবুজ দল এখন তাকিয়ে আছে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের দিকে। বিকেলে চাইনিজ তাইপেকে...
প্রচ্ছদসারাদেশহাওরজুড়ে কৃষকের কান্না আর আহাজারি

হাওরজুড়ে কৃষকের কান্না আর আহাজারি

এ যেন তীরে এসে তরী ডুবলো। চাষিদের চোখের সামনেই ধীরে ধীরে পাকা-আধপাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে পানিতে। ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে টানা ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ডুবে গেছে সোনালি ফসল। গত কয়েক দিনে কষ্ট করে যে ধান কিছুটা সংগ্রহ করা হয়েছিল, তাও রোদ না থাকা ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে শুকাতে না পেরে পচে নষ্ট হচ্ছে। বোরো ধান হারানোর বেদনায় হাওরজুড়ে এখন কেবল কৃষক পরিবারের কান্না আর আহাজারি।

জেলার হাকালুকি, কাউয়াদিঘি ও হাইল—এই তিন হাওরের চিত্রই প্রায় একই। গত ৬-৭ দিন ধরে পাকা-আধপাকা বোরো ধান ৩-৪ ফুট পানির নিচে তলিয়ে আছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এক সপ্তাহের বেশি সময় পানির নিচে থাকলে ধান ভালো থাকার সম্ভাবনা থাকে না। এর মধ্যে থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। এ বছর বোরো ধানের ফলন ভালো হওয়ায় চাষিদের মুখে ছিল হাসি, কিন্তু টানা বর্ষণে সেই আনন্দ এখন ম্লান।

চাষিদের অভিযোগ, “আমাদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে এই পানি। সারা বছরের সম্বল চোখের সামনেই ডুবে গেল। এখন পরিবার নিয়ে কী খাবো, কীভাবে সংসার চালাবো?” হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন এলাকার কৃষক—মানিক মিয়া (৪৮), মবশ্বির আলী (৬০), আব্দুর রহিম (৭৬), ফিদ্দুছ মিয়া (৫৫), তারা মিয়া (৬২), আশুক মিয়া (৫৮), শাহীন মিয়া (৪৫) ও ইউপি সদস্য নোমান সিদ্দিকীসহ অনেকেই একই হতাশার কথা জানিয়েছেন।

হাওর রক্ষা আন্দোলন, মৌলভীবাজারের সদস্য সচিব খছরু চৌধুরী বলেন, কাউয়াদিঘি হাওরের কিছু ধান এখনো রক্ষা করা সম্ভব, যদি কাশিমপুর পাম্প হাউজ সচল রাখা যায়।

অন্যদিকে, হাইল হাওরের তীরবর্তী বাসিন্দা ও বাইক্কা বিল সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিন্নত আলী জানান, হাইল হাওরের অধিকাংশ বোরো ধান এখন ৩-৪ ফুট পানির নিচে। বছরের একমাত্র জীবিকার ফসল হারিয়ে চাষিরা চরম হতাশায় নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন।

জানা গেছে, অনেক কৃষক নিজস্ব জমি না থাকায় বর্গা নিয়ে চাষ করেছেন। কেউ ৩ বিঘা, কেউ আবার ৫০ বিঘা পর্যন্ত জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা।

স্বপ্ন ছিল ভালো ফলনের ধান ঘরে তোলার। শ্রমিক সংকট ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে হারভেস্টার সংকট থাকলেও বৈশাখের শুরুতেই ধান কাটা শুরু হয়েছিল। বিঘাপ্রতি ১৫ থেকে ৩০ মণ পর্যন্ত ফলনও হয়েছিল। কিন্তু অর্ধেক ধান ঘরে তোলার আগেই বাকি ফসল তলিয়ে গেছে পানিতে।

এখন জেলার সব হাওরজুড়ে শুধু কৃষকের নীরব কান্না আর হাহাকারের দৃশ্য।