tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশস্বাস্থ্য খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে পুনরুদ্ধার করে ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে পুনরুদ্ধার করে ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াৎ হোসেন এমপি বলেছেন, বিগত সময়ে চরম দুর্নীতি, লুটপাট ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের স্বাস্থ্য খাত এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার সেই সংকট কাটিয়ে স্বাস্থ্য খাতকে পুনরুদ্ধার করে ইতোমধ্যে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে এনেছে। এখন এ খাতকে আরও গতিশীল ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘SZMC DAY 2026’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে ঢাকার পাঁচটি টারশিয়ারি হাসপাতাল পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সেবাগ্রহীতাদের জন্য চিকিৎসাসেবার চার্জ নির্ধারণে চূড়ান্ত বৈঠক সম্পন্ন হলেই পরীক্ষামূলকভাবে এ প্রকল্প চালু করা হবে। পরবর্তী সময়ে বগুড়াসহ দেশের অন্যান্য বড় শহরেও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

চিকিৎসক সংকট নিরসনে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ক্যাডারে নতুন যোগদান করা চিকিৎসকদের মধ্য থেকে ইতোমধ্যে বগুড়ায় ১৭ জনকে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে নতুন করে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আবেদন গ্রহণের পর বর্তমানে নিয়োগ কার্যক্রম সাক্ষাৎকার পর্যায়ে রয়েছে। এ নিয়োগ সম্পন্ন হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিদ্যমান চিকিৎসক সংকট অনেকাংশে কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বগুড়ার স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার সারাদেশে নতুন করে প্রায় ২০টি আধুনিক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগের আওতায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া হাসপাতালগুলোর পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে ইটিপি স্থাপনসহ আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বগুড়াসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশাহ। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) সভাপতি, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ওবায়দুল হক তরফদারের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও সার্বিক সমন্বয় করেন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মু. জহুরুল হক।