tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকহরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের দাবির জবাব ইরানের, ‘ছিল, আছে এবং থাকবে ইরানের’

হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের দাবির জবাব ইরানের, ‘ছিল, আছে এবং থাকবে ইরানের’

প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’ বলছে তেহরান

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কঠোর জবাব দিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ভবিষ্যতেও ইরানেরই থাকবে।’

সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানকে পরাজিত করার পর যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে ঘোষণা করতে পারে। তাঁর এমন মন্তব্য ঘিরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের পর কার্যত বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালি ‘শুধুমাত্র ইরানের সিদ্ধান্তেই খোলা বা বন্ধ করা হবে।’

ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করে ঘরিবাবাদি আরও বলেন, কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, বিমানবাহী রণতরী কিংবা প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দখল করা সম্ভব নয়। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে বড় ধরনের কৌশলগত পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে এবং ওয়াশিংটনের উচিত সেই বাস্তবতা স্বীকার করা।

এর আগে নিউইয়র্কে পুলিশ অ্যাকাডেমির এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি নিয়ে মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি বলেন, ইরানকে পুরোপুরি পরাজিত করার পর শিগগিরই তিনি প্রণালিটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ঘোষণা করবেন।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, পারমাণবিক অস্ত্রধারী একটি ‘দুষ্ট দেশকে’ থামাতে জ্বালানির জন্য কিছুটা বেশি অর্থ ব্যয় করাও যুক্তিযুক্ত। তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, ট্রাম্প ওই মন্তব্য মূলত রসিকতার ছলে করেছিলেন।

এর আগে ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। মার্কিন নৌঅবরোধের কারণে সেখানে এমন একটি ‘ইস্পাতের প্রাচীর’ তৈরি হয়েছে, যা ইরানের পক্ষে অতিক্রম করা সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

‘হরমুজ পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে’

ট্রাম্পের এই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ইরানের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমান্ড ‘খাতাম-আল আনবিয়া’র মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি ইরানের সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অনুমতি ছাড়া কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাঙ্কারের জন্য এই প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচল করা সম্ভব নয়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, গোয়েন্দা তথ্যের ব্যর্থতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র বারবার ভুল হিসাব করছে এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওয়াশিংটনের বর্তমান অবস্থানও সেই ভুল হিসাবেরই আরেকটি উদাহরণ।

সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হরমুজের গুরুত্ব

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে যৌথ বিমান হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলী খামেনিসহ দেশটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর জবাবে ইরানও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়।

এই সংঘাতের মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।