কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) লংমার্চ বন্ধ করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির নেতা শওকত ইউসুফজাই। তিনি বলেছেন, লংমার্চ শেষ করার চাবিকাঠি রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের হাতে।
বুধবার দেশটির গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। খবর জিও নিউজ উর্দুর।
ইমরান খানের মুক্তি, তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ এবং দলটির অন্যান্য নেতাকর্মীর মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে পিটিআই এই লংমার্চ করছে। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলটির সঙ্গে সরকারের উত্তেজনা ও আলোচনা—দুটিই অব্যাহত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে শওকত ইউসুফজাই বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, গণমাধ্যমে আলোচনা-আলোচনা খেলা বন্ধ করুন। যদি আপনাদের ক্ষমতা থাকে, তাহলে আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো মেনে নিন।’
পিটিআইয়ের এই নেতা বলেন, ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর, তার মামলাগুলোর শুনানি এবং ইমরান খানের বোনসহ কারাগারে বন্দি সব নারীকে মুক্তি দেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
সোহাইল আফ্রিদিকে ঘিরে চলমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন শওকত ইউসুফজাই। তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, ‘ম্যান্ডেট কেড়ে নিলে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল হবে না।’ সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সব অংশীজনকে নিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান তিনি।
শওকত ইউসুফজাইয়ের মতে, সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করতে কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রাদেশিক সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে সব অংশীজনকে আলোচনায় বসাতে হবে এবং সমস্যার সমাধান করতে হবে।
সোহাইল আফ্রিদিকে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, এমন কোনো পদক্ষেপ দেশের স্বার্থে হবে না এবং এর মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদও কমবে না।
এদিকে আলোচনার বিষয়ে পিটিআই নেতা ব্যারিস্টার গওহর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শর্তসাপেক্ষে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে পিটিআইয়ের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হওয়া উচিত কোনো পূর্বশর্ত ছাড়া।
তিনি বলেন, ‘পিটিআই আলোচনায় বসতে অস্বীকার করেনি, তবে আলোচনা অবশ্যই শর্তহীন হতে হবে।’
ব্যারিস্টার গওহরের অভিযোগ, সরকার তাদের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করছে এবং সংবাদ সম্মেলনে বাইরে এসে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে। তার মতে, সংবাদ সম্মেলনে যতটা সময় ব্যয় করা হয়েছে, তার অর্ধেক সময়ও যদি আলোচনায় দেওয়া হতো, তাহলে সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।
তিনি আরও জানান, সরকারের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে পিটিআইয়ের যোগাযোগ রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে চলমান সমস্যার সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা চলছে।
ফলে একদিকে লংমার্চ অব্যাহত রাখার ঘোষণা, অন্যদিকে সরকারের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা—দুই দিকই এখন পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



