মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে যখন একের পর এক সমীকরণ বদলাচ্ছে, তখন মক্কা থেকে এলো নতুন একটি বার্তা। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক নিজেদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত ৭ আগস্ট মক্কায় তিন দেশের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যে কারও ওপর বাইরে থেকে সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই চুক্তির পর মধ্যপ্রাচ্যের সম্ভাব্য নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে প্রশ্ন উঠেছে, এই জোটকে ইরান কীভাবে দেখছে। তবে তিন দেশই বলেছে, তাদের চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। ইরানকে লক্ষ্য করেও এটি করা হয়নি বলে স্পষ্ট করেছে তারা।
ইরানের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া
তেহরানের প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত বেশ সংযত। ইরানের কর্মকর্তারা সরাসরি চুক্তিটির সমালোচনা না করে আঞ্চলিক ও মুসলিম দেশগুলোর সহযোগিতার বিষয়টি সামনে আনছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার বলেছেন, মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাইরের ক্ষতিকর শক্তির সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মুসলিম দেশগুলোর নিজেদের ওপর নির্ভরতা ও ঐক্যের আহ্বান জানান। তবে ওই পোস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের চুক্তির সরাসরি উল্লেখ করেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই চুক্তি নিয়ে ইরানের উদ্বেগের কারণ রয়েছে।
কেন উদ্বিগ্ন হতে পারে ইরান
ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি নিয়ে গবেষণা করা ক্লিংএন্ডেল ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজির মতে, চুক্তির সময়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনাও বেড়েছে।



