ফ্লাইট বাতিলে আটকে হাজারো কর্মী, এক বছরে সৌদিতে জনশক্তি রপ্তানি কমেছে ৫৫ শতাংশ
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং আয় নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। পরিস্থিতির প্রভাবে ঢাকা থেকে রিয়াদসহ বিভিন্ন গন্তব্যের ৮২টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে হাজার হাজার নতুন ও পুরোনো কর্মী আটকা পড়ে দুর্ভোগ ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার সৌদি আরব। একই সঙ্গে দেশটি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেরও অন্যতম প্রধান উৎস। ফলে সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি দীর্ঘায়িত হলে নতুন কর্মী পাঠানো, বিদ্যমান কর্মীদের কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী আয়—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এরই মধ্যে সৌদি আরবে কর্মী পাঠানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সংঘাতের কারণে শ্রমবাজার আরও সংকুচিত হলে দেশের বেকারত্ব, প্রবাসী পরিবারের আয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অভিবাসন খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলায় বাংলাদেশি কর্মীদের হতাহত হওয়ার খবর নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হলে কর্মীদের চাকরি হারানো, আয় কমে যাওয়া কিংবা দেশে ফিরে আসার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। এতে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশমুখী বাংলাদেশিদের অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে। আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসীও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
রেমিট্যান্সে সৌদির বড় অবদান
বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস সৌদি আরব। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটি থেকে বাংলাদেশে এসেছে প্রায় ৫৮৪ কোটি ৯১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫-এ এই পরিমাণ ছিল ৪২৬ কোটি ৪৪ লাখ ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে সৌদি আরব থেকে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশ।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার। এর মধ্যে সৌদি আরবের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেও দেশটি থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে সৌদি আরব থেকে এসেছে প্রায় ১৬৫ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবাহ প্রায় ৩৪ শতাংশ বেশি। এ সময়ে বাংলাদেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ১৯ দশমিক ২ শতাংশ এসেছে সৌদি আরব থেকে। অন্যদিকে রেমিট্যান্স আহরণে তৃতীয় অবস্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে ৭৭ কোটি ৭৬ লাখ ডলার।
অর্থনীতিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সৌদি আরবের শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে কর্মীদের আয় কমে যাওয়া, চাকরি হারানো কিংবা দেশে ফেরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংঘাতের প্রভাব যে প্রবাসীদের ব্যক্তিগত আয়েও পড়তে শুরু করেছে, তার উদাহরণ সৌদি আরবে রেস্তোরাঁ পরিচালনাকারী বাংলাদেশি প্রবাসী শহীদুল। তিনি জানান, সৌদি আরবে তাঁর রেস্তোরাঁর ব্যবসা ভালোই চলছিল। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাব পড়ার পর দীর্ঘ সময় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রাখতে হয়েছে। পর্যটক ও ক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়ায় আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লেগেছে। এ অবস্থায় দেশে পরিবারের কাছে নিয়মিত টাকা পাঠানোও কঠিন হয়ে পড়েছে তাঁর জন্য।
জনশক্তি রপ্তানিতেও শীর্ষে সৌদি আরব
বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের প্রধান গন্তব্যগুলোর একটি সৌদি আরব। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে রেকর্ড ৭ লাখ ৫৫ হাজার ১৯৪ জন কর্মী দেশটিতে গেছেন। একই বছর বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ছেড়েছেন ১১ লাখের বেশি মানুষ। তাঁদের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি গেছেন সৌদি আরবে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি বসবাস ও কাজ করছেন। এ ছাড়া ২০২৫ সালে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কাতারে গেছেন ৪২ হাজার ৫১৬ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০ হাজার ৬৬১ জন এবং কুয়েতে ২০ হাজার ২৫৪ জন বাংলাদেশি। একই সময়ে জর্ডানে ১০ হাজার ১০ জন এবং ইরাকে ২ হাজার ৮৭৮ জন কর্মী গেছেন।
তবে চলতি বছরে সংঘাতের প্রভাবে সৌদি আরবে কর্মী পাঠানোর গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি আরবে গেছেন ২ লাখ ১ হাজার ৩৬১ জন বাংলাদেশি কর্মী। আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৫০ হাজার ৯০৭ জন। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে সৌদি আরবে কর্মী পাঠানোর হার কমেছে প্রায় ৫৫ শতাংশ।
শুধু সৌদি আরব নয়, সামগ্রিকভাবেও বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ থেকে গেছেন ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৫৯৭ জন কর্মী। আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৫১ হাজার ৯৫ জন। সে হিসাবে বিদেশে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা কমেছে প্রায় ৩২ শতাংশ।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় সাড়ে তিন লাখ কর্মী গেছেন। তবে অঞ্চলটির প্রধান শ্রমবাজারগুলোতে সংকট তৈরি হওয়ায় সরকার বিশ্বের অন্যান্য দেশে নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান শুরু করেছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার জটিল বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন করে কর্মী পাঠানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর আশা, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়বে।
অনিশ্চয়তায় প্রবাসী পরিবার ও দেশের অর্থনীতি
বিদেশে কর্মসংস্থানের সঙ্গে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক পরিবারের জীবনযাত্রা সরাসরি জড়িত। গ্রামীণ অর্থনীতির বড় একটি অংশ প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের ওপর নির্ভরশীল। এই অর্থ দিয়ে অনেক পরিবার সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা, আবাসন এবং দৈনন্দিন ব্যয় মেটায়। ফলে প্রবাসীদের আয় কমে গেলে তার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মী বা তাঁর পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; স্থানীয় অর্থনীতি ও ভোগব্যবস্থাতেও এর প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
অভিবাসন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বিদেশে যাওয়ার জন্য অনেক কর্মী জমি বিক্রি করেন, ঋণ নেন কিংবা পরিবারের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ব্যয় করেন। কিন্তু বিদেশে গিয়ে প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান না পেলে অথবা সংঘাতের কারণে চাকরি হারালে তাঁদের আর্থিক সংকট আরও গভীর হতে পারে। অন্যদিকে, যাঁরা ইতিমধ্যে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কাজ করছেন, তাঁদের নিরাপত্তা ও নিয়মিত আয় নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় কর্মীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। অনেক প্রবাসী ছুটি কাটিয়ে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। এতে চাকরি হারানো, বেতন কাটা কিংবা নিয়োগকর্তার অসন্তোষের মতো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, নতুন করে বিদেশে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কর্মীদেরও অনিশ্চিত সময় পার করতে হচ্ছে। বিদেশে যাওয়ার জন্য আগেই অর্থ ব্যয় করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল।
তাৎক্ষণিক ধাক্কার আশঙ্কা সরকারেরও
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে তাৎক্ষণিক ধাক্কা লাগতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, সংঘাতের কারণে প্রবাসীদের চাকরি হারানো এবং দেশে ফিরে আসার পরিস্থিতি তৈরি হলে তার প্রভাব দেশের প্রবাসী আয়ে পড়তে পারে। চলমান পরিস্থিতি প্রবাসীদের কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহের জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার নতুন আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার খোঁজার উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান জরুরি হলেও সৌদি আরবের মতো বড় শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানো অব্যাহত রাখা এবং সেখানে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি সমান গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। কারণ, নতুন বাজারে কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি করতে সময় লাগে। নিয়োগপ্রক্রিয়া, ভাষাগত দক্ষতা, প্রশিক্ষণ, ভিসা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে কর্মীদের প্রস্তুত করার মতো বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হয়।
সৌদির সঙ্গে দ্রুত আলোচনার তাগিদ
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফরমের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর, বিশেষ করে সৌদি আরবের ওপর নির্ভরতা বেশি। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা কমছে। নতুন কর্মীরা যেমন যেতে পারছেন না, তেমনি দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও হামলায় হতাহত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের জন্য শুধু কর্মসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য নয়, বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সেখানে কর্মীর চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে এবং প্রবাসী আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
শরিফুল হাসানের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশ বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ জন্য সরকারের উচিত সৌদি আরবের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করা এবং ঝুঁকি কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা।
বহুমুখী শ্রমবাজারই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানে অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি সামনে এনেছে। সৌদি আরবের মতো বড় শ্রমবাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে তার প্রভাব একসঙ্গে কর্মী পাঠানো, প্রবাসীদের আয় এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে পড়তে পারে। তাই বিদ্যমান শ্রমবাজারগুলো ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো জরুরি।
এ ক্ষেত্রে পূর্ব এশিয়া, ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি বিদেশগামী কর্মীদের প্রশিক্ষণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন।
সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্স প্রবাহে চাপ বাড়তে পারে। তাই তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান রক্ষা, আটকে পড়া কর্মীদের সহায়তা এবং বাতিল হওয়া ফ্লাইটের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের বিকল্প গন্তব্য বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।



