২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময় তারেক রহমানকে তুলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া। গুম-খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসে তিনি জবানবন্দিতে এ তথ্য জানান।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্যানেলের চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, অপর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।
জবানবন্দিতে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময় ২০০৭-২০০৯ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠে ডিজিএফআই। তারা বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ ব্যক্তিদের তুলে এনে নিজের সেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করত এবং তারেক রহমানকেও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
তিনি আরও জানান, বেসামরিক ব্যক্তিদের তুলে আনার বিষয়টি নিয়মে পরিণত হয়। তারা এমনভাবে বিশ্বাস করত যে, কোনো বাধা নেই—যা ইচ্ছা তাই করা সম্ভব। এ সময় তিনি সেনাবাহিনী পরিচালিত অপারেশন ক্লিন হার্ট-এর কথাও উল্লেখ করেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ২০০৩ সালে র্যাব গঠনের আগে অপারেশনে অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। জিজ্ঞাসাবাদে ১২ জন মারা গিয়েছিলেন, আর হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসাব অনুযায়ী ৬০ জন নিহত হয়েছেন। পরবর্তীতে দায়ীদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়, যা ছিল ‘লাইসেন্স টু কিল’।
এদিন মামলার সূচনা বক্তব্য দেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও শাইখ মাহদী। আসামিপক্ষের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী নাজনীন নাহার ও মুনসুরুল হক চৌধুরী।
এর আগে ১৪ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-১ জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার নির্দেশ দেন। জবানবন্দি দেওয়ার জন্য প্রথম সাক্ষী হিসেবে আজ তার সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলো।



