tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশনাজিরপুরে পরকীয়ার অভিযোগে ব্যবসায়ীকে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ, মৃত্যু

নাজিরপুরে পরকীয়ার অভিযোগে ব্যবসায়ীকে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ, মৃত্যু

পিরোজপুরের নাজিরপুরে এক নারীকে কেন্দ্র করে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে মো. আনিছুর রহমান (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে মারধর, আটকে রাখা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর শনিবার (১৫ আগস্ট) তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহত আনিছুর রহমান উপজেলার দীর্ঘা ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন শিকদারের ছেলে। তিনি তৈয়বের হাট বাজারে লেপ-তোষকের ব্যবসা করতেন।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে স্থানীয় এক বিধবা নারী আসমা বেগমের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তোলা হয়। এরপর কয়েকজন ব্যক্তি তাকে মারধর করে টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায় এবং আরও অর্থ দাবি করে।

অভিযোগে যাদের নাম এসেছে তারা হলেন—শাঁখারিকাঠী ইউনিয়নের বুড়িখালী গ্রামের হেলাল শেখের ছেলে আরিফুল ইসলাম শেখ (২৫), সিদ্দিক শেখের ছেলে শফিকুল ইসলাম শেখ (২৪), সিরাজুল শেখের ছেলে হাফিজুল শেখ এবং উত্তর হোগলাবুনিয়া গ্রামের অলি মোল্লার ছেলে আজিজুল ইসলাম মোল্লা (২৬)।

রাতভর আটকে রাখার অভিযোগ

ভুক্তভোগী নারী আসমা বেগম জানান, আনিছুর রহমান তার দোকানের পাশেই ব্যবসা করতেন। তাদের মধ্যে ভাই-বোনের মতো সম্পর্ক ছিল।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী একসঙ্গে খিচুড়ি খাওয়ার পর রাত প্রায় ২টার দিকে তিনি পাশের বাথরুমে যান। এ সময় তাকে ডেকে নিয়ে আনিছুর রহমানের দোকানে আটকে রাখা হয়।

পরে আনিছুরের সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে তাকে মারধর করা হয়। এ সময় তার পকেট থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ওই নারী। পরে আরও ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

দাবিকৃত টাকা না পাওয়ায় তাদের দুজনকে রাতভর একই কক্ষে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিয়ে পড়ানোর জন্য কাজীকে ডাকা হয়

পরদিন সকালে তাদের বিয়ে পড়ানোর জন্য স্থানীয় কাজী মো. ফরাদুল ইসলামকে ডাকা হয়।

কাজী ফরাদুল ইসলাম জানান, ওই নারী ও পুরুষের বিয়ে পড়ানোর জন্য তাকে ডাকা হয়েছিল। তবে আনিছুর রহমানের স্ত্রী থাকার বিষয়টি জানতে পারেন এবং তার কাছে ভোটার আইডি কার্ড না থাকায় তিনি বিয়ে পড়াননি। পরে সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় আনিছুর পড়ে যান।

এরপর তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।

অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা: পুলিশ

নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে আনিছুর রহমানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, তাকে মারধর করা হয়েছিল কি না এবং চাঁদা দাবির অভিযোগের সত্যতা—এসব বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।