ঋতু পরিবর্তনের সময় হাঁচি, সর্দি, কাশি ও হালকা জ্বরে আক্রান্ত হওয়া বেশ সাধারণ। অনেকেই এসব উপসর্গকে সাধারণ ঠান্ডা লাগা বা ভাইরাসজনিত অসুস্থতা মনে করে গুরুত্ব দেন না। তবে কিছু ক্ষেত্রে একই ধরনের লক্ষণ ফুসফুসের গুরুতর সংক্রমণ নিউমোনিয়ারও ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বা বুকের ব্যথা দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়।
ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস কিংবা কখনো ছত্রাকের সংক্রমণ থেকে নিউমোনিয়া হতে পারে। রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সংক্রমণের মাত্রার ওপর এর তীব্রতা নির্ভর করে।
শুরুতে সাধারণ সর্দি-কাশির মতোই মনে হতে পারে
নিউমোনিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় সাধারণ সর্দি-কাশির সঙ্গে মিলে যায়। হালকা জ্বর, শুকনো কিংবা কফসহ কাশি, ক্লান্তি এবং শরীর খারাপ লাগার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ফলে শুরুতেই নিউমোনিয়াকে সাধারণ ভাইরাসজনিত অসুস্থতা মনে হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে কয়েক দিন পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। সাধারণ সর্দি-কাশির উপসর্গ অনেক ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যে কমতে শুরু করে। কিন্তু নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং কাশির তীব্রতাও বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
শ্বাসকষ্ট ও বুকের ব্যথা বড় সতর্কসংকেত
নিউমোনিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া। ফুসফুসের সংক্রমণ বাড়লে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে অল্প হাঁটাচলা বা দৈনন্দিন সামান্য কাজ করতেই যদি হাঁপিয়ে যেতে হয় কিংবা দম বন্ধ হওয়ার মতো অনুভূতি হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
এ ছাড়া গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার সময় বা কাশির সঙ্গে বুকে তীক্ষ্ণ ব্যথা অনুভূত হলেও সতর্ক হতে হবে। ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট প্রদাহের সঙ্গে এ ধরনের ব্যথা দেখা দিতে পারে।
শরীরে আরও যেসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে
নিউমোনিয়ার প্রভাব শুধু ফুসফুসেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে আরও কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন—
- মাথাব্যথা ও অতিরিক্ত দুর্বলতা
- খাবারের প্রতি অনীহা বা ক্ষুধামন্দা
- বমি বমি ভাব
- বমি হওয়া
তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে একই ধরনের উপসর্গ দেখা যাবে এমন নয়। কারও ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে অসুস্থতা বাড়তে পারে, আবার কারও অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে।
যাদের বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। শিশু ও প্রবীণদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক সংবেদনশীল হওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ নজর প্রয়োজন।
এ ছাড়া ডায়াবেটিস, কিডনির জটিলতা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও সতর্ক থাকা জরুরি। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রেও সংক্রমণ গুরুতর আকার নিতে পারে।
শুধু উপসর্গ দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় না
সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার কিছু উপসর্গ পরস্পরের সঙ্গে মিলে যেতে পারে। তাই শুধু লক্ষণ দেখে নিজে নিজে নিউমোনিয়া শনাক্ত করা নিরাপদ নয়।
রোগীর পরিস্থিতি বিবেচনা করে চিকিৎসক বুকের এক্স-রে, সিটি স্ক্যান কিংবা রক্ত পরীক্ষার মতো বিভিন্ন পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন। কোন পরীক্ষা প্রয়োজন এবং কী ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হবে, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।
কখন দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে
জ্বর কয়েক দিন ধরে না কমলে, কাশি ক্রমেই বাড়তে থাকলে, বুকের গভীরে ব্যথা হলে কিংবা শ্বাস নিতে কষ্ট হলে বিষয়টিকে সাধারণ ঠান্ডা লাগা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সময়মতো রোগ শনাক্ত করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করাই নিউমোনিয়ার জটিলতা কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।



