শীতের মৌসুম শুরু হলে আবহাওয়ার সঙ্গে মিল রেখে অনেকেই ঘরের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার ও সেটিংসে পরিবর্তন আনেন। এর মধ্যে ফ্রিজের তাপমাত্রা নিয়েও দেখা যায় নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। কেউ শীতের কারণে ফ্রিজের কুলিং কমিয়ে দেন, আবার কেউ সারা বছর একই সেটিংসে ফ্রিজ চালান।
কিন্তু শীতকালে ফ্রিজের তাপমাত্রা পরিবর্তন করা কতটা জরুরি? আর সঠিক তাপমাত্রা বজায় রেখে কীভাবে বিদ্যুৎ খরচ কমানো সম্ভব?
ফ্রিজের প্রধান কাজ খাবার ঠান্ডা রাখা এবং দীর্ঘ সময় নিরাপদ রাখা। তাই বাইরের আবহাওয়া ঠান্ডা থাকলেও ফ্রিজের ভেতরে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখা জরুরি। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ঠান্ডা করলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। অন্যদিকে, তাপমাত্রা বেশি থাকলে খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
ফ্রিজের আদর্শ তাপমাত্রা কত?
খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ফ্রিজের সাধারণ অংশের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে রাখা উচিত। অন্যদিকে, ডিপ ফ্রিজ বা ফ্রিজারের তাপমাত্রা হওয়া প্রয়োজন মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার কম।
এ তাপমাত্রায় খাবারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে খাবার তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় নিরাপদ রাখা যায়। শীতকালে বাইরের তাপমাত্রা কমে গেলেও ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা ইচ্ছেমতো বাড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়। কারণ ঘরের তাপমাত্রার পাশাপাশি ফ্রিজে রাখা খাবারের পরিমাণ এবং দরজা খোলার ঘনত্বও ভেতরের শীতলতার ওপর প্রভাব ফেলে।
ডায়ালের নম্বর দেখে বিভ্রান্ত হবেন না
অনেক ফ্রিজে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য ১ থেকে ৫ কিংবা ১ থেকে ৭ পর্যন্ত নম্বর দেওয়া থাকে। সাধারণত নম্বর বাড়ালে শীতলতাও বাড়ে। তবে ব্র্যান্ড ও মডেলভেদে এই ব্যবস্থায় পার্থক্য থাকতে পারে। তাই শুধু ডায়ালের নম্বর দেখে ফ্রিজের প্রকৃত তাপমাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না।
ডিজিটাল ডিসপ্লে না থাকলে আলাদা রেফ্রিজারেটর থার্মোমিটার ব্যবহার করে ভেতরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করতে পারেন। পাশাপাশি ফ্রিজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনাও অনুসরণ করা উচিত।
বিদ্যুৎ খরচ কমাতে যেসব বিষয় মেনে চলবেন
১. ফ্রিজ অতিরিক্ত ভর্তি করবেন না: ফ্রিজের ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা রাখুন, যাতে ঠান্ডা বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে। এতে খাবারও সমানভাবে ঠান্ডা থাকবে।
২. বারবার দরজা খুলবেন না: অপ্রয়োজনে ফ্রিজের দরজা খুলে রাখলে উষ্ণ বাতাস ভেতরে প্রবেশ করে। ফলে নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় রাখতে কম্প্রেসরকে বেশি কাজ করতে হয়।
৩. খাবার ঢেকে রাখুন: রান্না করা খাবার ঢাকনাযুক্ত পাত্রে সংরক্ষণ করুন। কাঁচা মাছ ও মাংস আলাদা পাত্রে রাখুন, যাতে অন্য খাবারে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে।
৪. দরজার রাবার পরীক্ষা করুন: ফ্রিজের দরজার সিল বা রাবার নষ্ট হলে ঠান্ডা বাতাস বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে। এতে ফ্রিজকে বেশি কাজ করতে হয় এবং বিদ্যুৎ খরচ বাড়তে পারে।
৫. অপ্রয়োজনীয় কুলিং এড়িয়ে চলুন: খাবার নিরাপদ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রার চেয়ে বেশি ঠান্ডা করার দরকার নেই। সঠিক সেটিংস বজায় রাখাই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কার্যকর উপায়।
শুধু শীত এসেছে বলে ফ্রিজের তাপমাত্রা পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই। সারা বছর ফ্রিজের সাধারণ অংশ ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে এবং ফ্রিজার মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখুন। সঠিক ব্যবহার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে খাবার নিরাপদ রাখার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচও কমানো সম্ভব।



