tanaka

নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন, দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জি-৪-এর

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে জি-৪ জোট। ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপান নিয়ে গঠিত এই জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা...
প্রচ্ছদরাজনীতিসরকার ও ঐকমত্য কমিশন বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, অভিযোগ বিএনপি মহাসচিবের

সরকার ও ঐকমত্য কমিশন বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, অভিযোগ বিএনপি মহাসচিবের

অন্তর্বর্তী সরকার ও ঐকমত্য কমিশন দেশের জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “যখন জাতীয় ঐকমত্য কমিশন তাদের সুপারিশ উপস্থাপন করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে, তখন সেখানে নানা পার্থক্য দেখা যায়। কমিশনের সদস্যরা স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, তাদের নোট অব ডিসেন্ট যেন সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাঁরা এ বিষয়ে আস্থা রেখেছিলেন। কিন্তু সেই আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেনি—বরং জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা নির্বাচন করব এবং নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা যে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন, আমরা সেটির প্রতি সমর্থন জানাই। কিন্তু একটি মহল ওই নির্বাচনকে বানচাল বা বিলম্বিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। নানা বক্তব্যের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।”

বিএনপি মহাসচিব স্পষ্ট করে বলেন, “নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এক ব্যালটে গণভোট এবং আরেক ব্যালটে জাতীয় সংসদ নির্বাচন—এটাই আমাদের অবস্থান। এ বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তির অবকাশ নেই।”

গণভোটের দাবিতে আন্দোলনরত রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, “যাঁরা এ নিয়ে আন্দোলন করছেন, তাঁদের প্রতি অনুরোধ—জনগণকে আর বিভ্রান্ত করবেন না। অতীতে যেমন বিভ্রান্ত করেছেন, তেমনটি আর করবেন না। ইতিহাস সাক্ষী, যারা জনগণের বিশ্বাস ভঙ্গ করে, তারা কখনও ক্ষমা পায় না।”

মির্জা ফখরুল আহ্বান জানান, “আন্দোলনরত দলগুলো, বিশেষ করে জামায়াতসহ অন্যরা—দয়া করে এ অবস্থান থেকে সরে আসুন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণের মতামত প্রতিষ্ঠিত হোক, সেটিই আমাদের কাম্য। দেশের সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা।”

তিনি বলেন, “আমরা আমাদের দীর্ঘদিনের মিত্রদের সঙ্গে, যাদের সঙ্গে ১৭ বছর ধরে একত্রে লড়াই করেছি, তাদের নিয়েই সরকার গঠন করতে চাই। নির্বাচনের পর একটি জাতীয় সরকার গঠনের ইচ্ছা আমাদের স্পষ্ট। আসুন, সবাই মিলে এই নির্বাচনকে সফল করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি।”

সংস্কারবিরোধী অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “বাংলাদেশে যত বড় সংস্কার হয়েছে, সবই বিএনপির উদ্যোগে। আমরা ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছি। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—যেসব সংস্কারে আমরা একমত হয়েছি, ক্ষমতায় এলে সেগুলো বাস্তবায়ন করব এবং যেগুলো বাকি আছে, তা আমাদের ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেএসডি সহ-সভাপতি তানিয়া রব। এতে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, ভাসানী জনশক্তি পার্টির শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু প্রমুখ।
এ সময় বিএনপি মহাসচিব আ স ম আবদুর রবের আশু রোগমুক্তি কামনা করেন।