সরকার দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস পূর্ণ করেছে। এ সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। গতকাল তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মাহদী আমিন বলেন, সরকার স্বল্প সময়ে যে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দল সংসদে হট্টগোল, আন্দোলনের হুমকি ও অপপ্রচারের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে।
সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি জানান, নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প শেষ হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারকে এই কার্ড দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার আওতায় প্রাথমিকভাবে ১০টি জেলার ২২ হাজারের বেশি কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ঋণ (১০ হাজার টাকা পর্যন্ত) মওকুফ করা হয়েছে।
সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকার সংসদীয় কার্যক্রমে একটি নজির স্থাপন করেছে। এর মধ্যে কিছু অধ্যাদেশ পুনরায় যাচাই করে বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া সারা দেশে নদী-খাল পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যা ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায় বাস্তবায়নাধীন।
জ্বালানি খাতে সরকার ভর্তুকি বৃদ্ধি, বিকল্প উৎস থেকে আমদানি ও কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ হিসেবে রুফটপ সোলার থেকে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থনীতি ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং খাদ্য আমদানি অব্যাহত রেখেছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ইমাম, পুরোহিত, ভিক্ষু ও যাজকদের মাসিক সম্মানী প্রদান কার্যক্রম চালু রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণ করা হবে।
এছাড়া প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’, হজ খরচ কমানো, সরকারি চাকরির শূন্য পদ পূরণে পরিকল্পনা গ্রহণ, বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু, শিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি, ভর্তি ফি বাতিল, আধুনিক ভর্তি পদ্ধতি চালু এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান, নদী রক্ষা আইন কঠোর করা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে অনলাইন সেবা বাধ্যতামূলক করা, ভূমি উন্নয়ন কর ডিজিটাল করা, ২৪/৭ হটলাইন চালু এবং সরকারি ব্যয় কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, সরকারের ওপর জনগণের আস্থা ফিরে আসছে এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জনগণের বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, বৈশ্বিক সংকট সত্ত্বেও সরকার উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে কাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।



