সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য সুষ্ঠু একাডেমিক পদসোপান প্রণয়ন ও প্রবেশ পদ নবম গ্রেডে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এন্ট্রিপদ নবম গ্রেড ভিত্তিক পদসোপান বাস্তবায়ন পরিষদ।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর–রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের মুখপাত্র ও ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল মুমিন এ দাবি তুলে ধরেন।
তিনি জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) জনবল বণ্টনে চরম বৈষম্য রয়েছে। মাউশির মোট জনবলের মধ্যে কলেজ শাখায় কর্মকর্তার সংখ্যা ৩১ জন (৯১.১৮ শতাংশ), আর বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখায় কর্মকর্তার সংখ্যা মাত্র ৩ জন (৮.৮২ শতাংশ)। অথচ অধিদপ্তরের অধীন প্রতিষ্ঠানের ৮২ শতাংশই মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ মাত্র ১৮ শতাংশ। অর্থাৎ, ১৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের জন্য ৯১ শতাংশ জনবল এবং ৮২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের জন্য মাত্র ৯ শতাংশ জনবল রয়েছে।
মুমিন আরও বলেন, কলেজ শাখার শিক্ষকদের ৫৭.২ শতাংশ পদোন্নতির সুযোগ থাকলেও বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখায় এই হার মাত্র ৭.০৬ শতাংশ, যা ৫০ শতাংশের বেশি বৈষম্য তৈরি করেছে। ফলে মাধ্যমিক শিক্ষায় প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি ও মানোন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি দাবি জানান, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতার প্রবেশ পদ নবম গ্রেডে উন্নীত করে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের মর্যাদা প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি ৪–৬ স্তরের সুষ্ঠু একাডেমিক পদসোপান প্রণয়ন করা জরুরি। এতে শিক্ষকদের জন্য বৈষম্যহীন পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হবে এবং মাধ্যমিক শিক্ষায় গতিশীলতা আসবে।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ফুলপুর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) একেএম আজাদ। তিনি কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, আগামী ১৮ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে পদসোপান সংক্রান্ত আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আগামী ২১ কর্মদিবসের মধ্যে শিক্ষা উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হবে। এর মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ঢাকায় সারাদেশের শিক্ষকদের মহাসমাবেশ আয়োজন করা হবে, যার স্থান ও তারিখ পরে জানানো হবে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা জাতির কারিগর, কিন্তু সেই মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। শিক্ষকদের যেন নিগৃহীত হতে না হয় এবং তারা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেন, এজন্য বিষয়টিকে জাতীয় স্বার্থে গুরুত্ব দিতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের অন্যান্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।



