দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে স্কেল নিয়ে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে পে স্কেল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীরা মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন বলে স্পষ্ট করেছে সরকার।
আর্থিক সংকট ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে স্কেল ঘোষণার সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সময়ের স্বল্পতা এবং ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির কারণে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে নতুন পে স্কেল ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা নেই।
তবে পে স্কেল প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় পে কমিশনের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি। কমিশনকে কাজ চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো প্রস্তুত করা যায়। কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে, যা নির্বাচনের পর নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে স্কেল ঘোষণার প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর মতে, এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়াই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য যুক্তিযুক্ত পদক্ষেপ।
অন্যদিকে, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, পে কমিশনকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
২০২৫ সালে মহার্ঘ ভাতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। ওই বছরের ১ জুলাই থেকে মহার্ঘ ভাতা কার্যকর করার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১৫ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ২০ শতাংশ হারে ভাতা প্রদানের প্রস্তাব আসে। তবে পরে সরকার মহার্ঘ ভাতার পরিবর্তে নতুন পে স্কেল প্রণয়নের দিকেই অগ্রসর হয়।
সার্বিকভাবে, নতুন পে স্কেল বা বেতন কাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীরা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পাবেন। সে অনুযায়ী, প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১৫ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ২০ শতাংশ হারে ভাতা পেতে পারেন।
বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা অষ্টম জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, যা ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়। এর আগে ২০০৯ সালের ১ জুলাই সপ্তম বেতনকাঠামো কার্যকর হয়েছিল। সাধারণত পাঁচ বছর পরপর নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণার রীতি থাকলেও, অষ্টম বেতনকাঠামোর প্রায় নয় বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন কাঠামো কার্যকর হয়নি। ফলে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ গ্রেডের সর্বশেষ ধাপে পৌঁছে গেছেন।
এ প্রেক্ষাপটে মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনায় ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের ৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা, যা জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগেই প্রায় সমাপ্ত হবে।



