tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদটপ নিউজসমুদ্রসম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সমুদ্রসম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেশের সামুদ্রিক সম্পদের সুরক্ষা, সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সুনীল অর্থনীতির (ব্লু ইকোনমি) বিকাশে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২০ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, একবিংশ শতাব্দীর বিশ্ব বাস্তবতায় সমুদ্র শুধু ভৌগোলিক সীমানার অংশ নয়; এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং জাতীয় কৌশলগত সক্ষমতার অন্যতম ভিত্তি।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক অর্গানাইজেশন (আইএইচও) এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে— ‘Transforming How Ocean Data is Shared’ (সামুদ্রিক তথ্য আদান-প্রদানের ধারণায় আমূল পরিবর্তন)। এ প্রতিপাদ্যকে সময়োপযোগী ও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক, নিরাপদ ও নির্ভুল সামুদ্রিক তথ্য বিনিময় শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রতিফলন নয়; এটি জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। একই সঙ্গে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে নিরাপদ নৌ-চলাচল, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা সম্ভব।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ সমুদ্র এলাকা দেশের অর্থনৈতিক শক্তি, সার্বভৌমত্ব ও ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি। এ অঞ্চলে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে। নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করা, সমুদ্রতলের সঠিক মানচিত্র প্রণয়ন এবং উপকূলীয় অঞ্চলের পরিকল্পিত উন্নয়নে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তিনি আরও বলেন, এসব কার্যক্রম নৌ-চলাচলের ঝুঁকি কমানো, বন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং সামুদ্রিক অর্থনীতির বিকাশে সহায়ক হচ্ছে। দেশের সামুদ্রিক সম্পদের সুরক্ষা ও সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

প্রধানমন্ত্রী জানান, হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রমের আধুনিকায়ন, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্যব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ খাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ডিজিটাল হাইড্রোগ্রাফি, জিওস্পেশাল ডাটা ব্যবস্থাপনা এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে।

তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, গবেষণা ও উদ্ভাবন সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ, শিক্ষা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সুনীল অর্থনীতি ভবিষ্যতের বাংলাদেশের সমৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্যও কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।