tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়ে মন্তব্য করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়ে মন্তব্য করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার প্রচারণার প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, “তারা বলছে ডিসেম্বরে দেশে আসবে। আমরা অপেক্ষা করছি। দেশে আসুন, ইনশাল্লাহ রাজপথে দেখা হবে।”

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ পরিবার ও জুলাই আন্দোলনের আহত ও অংশগ্রহণকারীদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, গুম, খুন, নির্যাতন ও অর্থ পাচারের মতো অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দলটির মধ্যে অনুশোচনার লক্ষণ দেখা যায়নি। তিনি আরও বলেন, “২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি। এখন ৮২ বছর বয়সেও দেশের প্রয়োজনে প্রয়োজন হলে আবারও লড়াই করব।”

জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের পরিবার এবং আহতদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। দেশের সামর্থ্য অনুযায়ী সরকার তাদের সহায়তা করবে এবং যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ যেমন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছিল, তেমনি জুলাইয়ের আন্দোলনও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। তাঁর মতে, নির্বাচন গণতন্ত্রের একটি অপরিহার্য উপাদান এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত থাকলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আরও সুদৃঢ় হবে।

জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই আন্দোলনের প্রথম নিহত আবু সাঈদ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবি না থাকায় উপস্থিত কয়েকজনের হট্টগোলের ঘটনাকে তিনি অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রামাণ্যচিত্রে ভুল হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বিষয়টি স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এরপরও জাতীয় অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনা দেশের ভাবমূর্তির জন্য ইতিবাচক নয় এবং এমন পরিস্থিতিতে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

এছাড়া নেতা-কর্মীদের আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক সময় অনুসারীরা নেতাদের নির্দেশনা অনুসরণ না করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করেন। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে স্লোগান বা বিশৃঙ্খল আচরণ পরিহার করে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।