পণ্যের মান নিয়ে ভোক্তার আস্থা নিশ্চিতে বিএসটিআইকে আরও কার্যকর করা হবে :শিল্পমন্ত্রী
দেশে উৎপাদিত ও বাজারজাত করা পণ্যের মান নিয়ে ভোক্তাদের আস্থা নিশ্চিত করতে বিএসটিআইকে আরও শক্তিশালী করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার, জনবল বৃদ্ধি এবং অর্গানোগ্রাম পুনর্গঠনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে সময়োপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।শনিবার (৬ জুন) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিএসটিআই অডিটোরিয়ামে বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী এমদাদুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান এবং এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. আব্দুর রহিম খান।
এসময় বিএসটিআইয়ের পরিচালক (মেট্রোলজি) মো. মাজাহারুল হক, সরকার আবুল খালেক, মোয়াজ্জেম হোসেনসহ শিল্প মন্ত্রণালয়, বিএসটিআই এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের মডেল পর্যালোচনা করে দেশের বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী বিএসটিআইয়ের অর্গানোগ্রাম পুনর্গঠন করা হবে। পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটিকে আধুনিক ও কার্যকর রূপ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই)-কে আরও শক্তিশালী করা হবে। প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানটির জনবলও বাড়ানো হবে, যাতে দেশের পণ্য ও সেবার মান নিশ্চিত করা যায়।খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে সঠিক পরিমাপ ও নির্ভুল পরিসংখ্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সিস্টেম অব ইউনিটস (এসআই) আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্প উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি ও ডিজিটাল যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিংয়ের মতো প্রযুক্তির বিকাশে নির্ভুল পরিমাপ পদ্ধতি অপরিহার্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএসটিআইয়ের ল্যাবরেটরি আধুনিকায়নের কাজ চলমান রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিল্পায়নের প্রসার, পণ্যের মানোন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। বিএসটিআইয়ের টেক্সটাইল টেস্টিং ল্যাবরেটরির আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সক্ষমতা দেশের পোশাক শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সহায়তা করছে। এ সক্ষমতা বিদেশে আরও বেশি প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।বিএসটিআইয়ের জনবল কাঠামো প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার মডেল পর্যালোচনা করে দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির অর্গানোগ্রাম পুনর্গঠন করা হবে।
ভোক্তার আস্থা অর্জনে মান নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি দেশের উৎপাদন ও ভোগ পর্যায়ের পণ্যের মান নিয়ে মানুষের আস্থা থাকতে হবে। খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে দৈনন্দিন ব্যবহারের সব পণ্য সঠিক মানদণ্ডে উৎপাদিত হচ্ছে কি না— তা নিশ্চিত করা জরুরি। এই দায়িত্ব পালনে বিএসটিআই গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের দেশে হাজারও পণ্যের মান নির্ধারণ এবং সেই মান বজায় রাখা একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। আগামী দিনে বিএসটিআইকে দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সক্ষম ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে।



