tanaka

এশিয়ান গেমস • কাবাডিতে কোরিয়া বধের পর বাংলাদেশের চোখ পদকে

এশিয়ান গেমসে পুরুষ কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে লাল-সবুজ দল এখন তাকিয়ে আছে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের দিকে। বিকেলে চাইনিজ তাইপেকে...
প্রচ্ছদরাজনীতি‘শাপলা কলি’ প্রতীকেই রাজি এনসিপি

‘শাপলা কলি’ প্রতীকেই রাজি এনসিপি

রবিবার বিকেলে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, দলটি ‘শাপলা কলি’ প্রতীকেই রাজি হয়েছে।

তিনি বলেন, “জাতীয় নাগরিক পার্টি ইসিতে চিঠি দিয়ে ‘শাপলা’, ‘সাদা শাপলা’ ও ‘শাপলা কলি’ — এই তিনটি প্রতীক প্রার্থনা করেছিল। নির্বাচন কমিশন যদি ‘শাপলা কলি’ প্রতীক দেয়, এনসিপি সেটিই গ্রহণ করবে। তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীরাও প্রতীকের বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন।”

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন এনসিপিসহ দুটি দলকে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে এনসিপিকে তফসিলভুক্ত ৫০টি প্রতীকের তালিকা থেকে পছন্দ করার জন্য ৭ অক্টোবর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করেছিল ইসি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতীক না বেছে এনসিপি বিধি সংশোধন করে ‘শাপলা’ প্রতীকের দাবি তোলে। তবে কমিশন বারবার জানায়, প্রতীক তালিকায় না থাকায় ‘শাপলা’ প্রতীক দেওয়া সম্ভব নয়।

এরই মধ্যে এনসিপি নেতারা ঘোষণা দেন যে, তারা ‘শাপলা’ প্রতীকেই ভোট করবেন এবং প্রতীক না পেলে আন্দোলনে নামবেন। এনসিপির এমন অনড় অবস্থান ও হুঁশিয়ারির প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন প্রতীক তালিকায় ‘শাপলা কলি’সহ চারটি নতুন প্রতীক যুক্ত করে।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এনসিপি ‘শাপলা’ প্রতীকই চায়। যখন আমরা ‘শাপলা’ চেয়েছিলাম, তখন নির্বাচন কমিশন বলেছিল— ‘তালিকায় নেই, তাই দেওয়া যাবে না’। এখন তারা কীভাবে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক অন্তর্ভুক্ত করল, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।”

‘শাপলা’ প্রতীকের দাবিতে অনড় অবস্থান থেকে সরে আসা প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “এটিকে কিছুটা ‘ইঞ্জিনিয়ারিং কমিশন’ বলা যায়। এখানে অনেক কিছুই ইঞ্জিনিয়ারিং হচ্ছে। সেই বাস্তবতায় থেকেই আমরা আমাদের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। সেই লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের জন্য আবেদন করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা ‘শাপলা কলি’ নেব। হয়তো অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে— আমরা যখন ‘শাপলা’ চাইছিলাম, এখন কেন অন্য প্রতীকে যাচ্ছি? নির্বাচন কমিশনের স্বেচ্ছাচারী আচরণের মধ্যেও আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থ বিবেচনা করে। এখন কি আমরা শুধু প্রতীক নিয়েই পড়ে থাকব, না কি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেব— সেই বাস্তবতা থেকেই এই সিদ্ধান্ত।”

এদিকে জোটবদ্ধ হয়ে ভোট করলেও প্রতিটি দলকে নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে— এমন বিধান সংবলিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনী অধ্যাদেশ ২৩ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। তবে এই বিধানের বিরোধিতা করে বিএনপি ইসিকে চিঠি দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানায়। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী এ বিধান বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়।

রবিবার এনসিপিও একইভাবে ওই বিধান বহাল রাখার পক্ষে সিইসির কাছে লিখিত আবেদন জানায়। এতে বলা হয়, “প্রতিটি নিবন্ধিত দলকে তাদের নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়া— এটি নির্বাচন কমিশনের একটি ঐতিহাসিক ও নীতিগতভাবে সঠিক পদক্ষেপ। যদি বিএনপির রাজনৈতিক চাপে সরকার বা ইসি এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে, তবে তা শুধু কমিশনের স্বাধীনতার ওপরই নয়, বরং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতার ওপরও আঘাত হানবে।”

এনসিপির মতে, বিএনপির চাপের মুখে ইসি অবস্থান পরিবর্তন করলে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটির নিরপেক্ষতা, সক্ষমতা এবং সামগ্রিক প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে জনগণের সন্দেহ আরও দৃঢ় হবে।

রবিবার সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে এনসিপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ ও যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা। এ সময় নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।