লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ না হলে যুদ্ধ অবসান সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির দাবি, লেবাননে কার্যকর যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা যেকোনো শান্তি চুক্তির অপরিহার্য অংশ।
সোমবার (১ জুন) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই।
লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাঘাই বলেন, মধ্যপ্রাচ্য দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি আগ্রাসনের শিকার। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে গত কয়েক দশক ধরে ইসরায়েল এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা ৮ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট ও গুরুতর লঙ্ঘন। বাঘাই বলেন, “আমরা বারবার বলেছি এবং এখনও বলছি, লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা যেকোনো যুদ্ধ সমাপ্তি চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ।”
ইরানের এই মুখপাত্রের অভিযোগ, শুধু ইসরায়েলই নয়, যুক্তরাষ্ট্রও বিভিন্নভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে তিনি ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এসব পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের শামিল।
লেবানন ও দেশটির প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বাঘাই বলেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র হিসেবে আমরা লেবানন এবং সেখানকার প্রতিরোধ আন্দোলনকে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে যাব।”
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন বারবার নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করছে এবং নতুন কিংবা পরস্পরবিরোধী দাবি উত্থাপন করছে, যা আলোচনাকে জটিল ও দীর্ঘায়িত করছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে বাঘাই জানান, বর্তমানে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না। তিনি বলেন, “পারমাণবিক বিষয়ে কখন এবং কীভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে, তা আমরা ভালোভাবেই জানি। তবে এই মুহূর্তে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আলোচনা হয়নি। আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার এখন যুদ্ধের অবসান।”
বিদেশে জব্দ হয়ে থাকা ইরানের সম্পদ ফেরত পাওয়ার বিষয়টিকে দেশের একটি মৌলিক দাবি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না, কারণ এটি ইরানি জনগণের ন্যায্য অধিকার।
এদিকে পারস্য উপসাগরে সম্ভাব্য ন্যাটো হস্তক্ষেপ নিয়েও সতর্কবার্তা দেন বাঘাই। তিনি বলেন, “পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এমন কোনো সামরিক পদক্ষেপ বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।”
তার ভাষ্য, ন্যাটো বা ইউরোপীয় দেশগুলো যদি সত্যিই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে চায়, তাহলে তাদের উচিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনা। কারণ বর্তমান সংকটের জন্য মূলত তারাই দায়ী।
সূত্র: প্রেস টিভি



